নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ রাষ্ট্রপক্ষ শুনানি পরিচালনা করবে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও আসামিপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তা পিছিয়ে আজকের দিন পুনর্নির্ধারণ করেন।
শাপলা চত্বরের ঘটনায় বিচারিক এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জন আসামি হলেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ এ মামলার পলাতক আসামিরা হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বি এম ফরমান আলী।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও কোনো সন্ধান মেলেনি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর তারা নির্ধারিত সময়ে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের পলাতক ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন।
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও গ্রেপ্তারদের হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই মামলায় মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা উপস্থাপন করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন