সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় `শাপলা কর্নার`-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি এই স্বীকৃতি জানান।
শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি নেওয়া এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বসে প্রথমবারের মতো ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সম্মাননা দিয়েছেন। এই অনন্য উদ্যোগের অকপট স্বীকৃতি ও কৃতিত্ব দিয়ে তিনি উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান।
শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসের অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ভিত থেকে এসেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রেরণাও প্রোথিত ছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগের মাঝে। একইসঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মতো শাপলার শহীদরাও যেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পান, সেই দাবি সংসদ ও রাজপথে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক জানান, শাপলা স্মৃতি সংসদ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শহীদদের একটি প্রামাণ্য তালিকা তৈরি করে `শহীদনামা` শীর্ষক একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। এই তালিকাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা ও শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি শাপলা স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব মাওলানা কামালউদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের এবং মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মেলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই চেতনা ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন