রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ভূমিহীন হলে চাকরি হবে না কোন সংবিধানে আছে শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম

ভূমিহীন হলে চাকরি হবে না কোন সংবিধানে আছে শিক্ষামন্ত্রী

স্থায়ী আবাসন বা নিজস্ব জমিজমা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মিশন আচার্যের নিয়োগ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহসানুল হক মিলন। রোববার (৪ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি আলাপকালে মন্ত্রী জানতে চান, স্থায়ী বসতভিটা বা জায়গা না থাকলে কাউকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে না—এমন কোনো বিধান, আইন বা সরকারি সার্কুলার দেশে বিদ্যমান রয়েছে কি না।

টেলিফোন কথোপকথনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। কথোপকথনে তাকে বলতে শোনা যায়, প্রার্থীর নিজস্ব আবাসন না থাকলে রাষ্ট্র বা আপনারা তা তৈরি করে দেবেন; কোন সংবিধানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে যে আবাসন না থাকলে একজন নাগরিককে সরকারি চাকরি দেওয়া যাবে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী আরও বলেন, স্থায়ী ঠিকানা যদি নিয়োগের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দাঁড় করানো হয়, তবে দেশের যেসব পরিবারের নিজস্ব জায়গা-জমি নেই, তাদের সন্তানদের মেধা থাকা সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত হবে। 

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের কি নিজস্ব আবাসন নিশ্চিত করা আছে; তবে কেন এই ফাইল অধিদপ্তরে মতামতের জন্য পাঠানো হলো এবং সরকার কি কখনো নির্দেশ দিয়েছে যে যার আবাসন থাকবে না সে সরকারি চাকরি পাবে না। মিশনের শিক্ষক পদে নিয়োগ আটকে দেওয়ার বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল বলে ওই কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে জানালে, মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে জানতে চান মতামতের ওই নথি কবে পাঠানো হয়েছে এবং কোন সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন নিয়োগবঞ্চিত এই তরুণ শিক্ষক প্রার্থী মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ পর্ব শেষে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন নিশ্চিত করেন যে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে মিশন আচার্য তাঁর প্রাপ্য নিয়োগপত্র হাতে পেতে যাচ্ছেন এবং মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫ এ মেধার চূড়ান্ত মূল্যায়নে সফলভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন মিশন আচার্য, যার রোল নম্বর ছিল ৬৫১৫৩২৮। ওই একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৮২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮০ জনকে ইতিমধ্যেই নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হলেও কেবল নিজস্ব স্থায়ী বসতভিটা না থাকার অজুহাতে একমাত্র মিশনের চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন মিশন আচার্য। নিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে পরিচালিত পুলিশি তদন্ত ও ভেরিফিকেশনে তাঁর বর্তমান বসবাস ও ঠিকানার তথ্যাবলি সম্পূর্ণ সঠিক হিসেবেই প্রত্যয়ন করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। শিক্ষামন্ত্রীর সরাসরি ও কঠোর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের এই অপ্রত্যাশিত নিয়োগ জটিলতা নিরসন করে অবশেষে তাঁর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।