অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রেখে একটি উদার, গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৪ অক্টোবর) বঙ্গভবনে শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রী পদ্মনাভ ঠাকুরের নেতৃত্বে সংগঠনটির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। ঐতিহাসিক জাতীয় ঐক্যের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি দৃঢ় বার্তা দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথভাবে লড়াই করেছিলেন। সবার সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও ইস্পাতকঠিন ঐক্যের শক্তিতেই স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবহমান বাংলার এই অমূল্য ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। যুগ যুগ ধরে এ দেশের প্রধান প্রধান ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে গভীর সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে, তা টিকিয়ে রাখতে সমাজের সবাইকে সর্বদা সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অনগ্রসর মতুয়া জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর কর্মসূচি এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি উল্লেখ করেন যে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত মাসের মাথায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাটল ধরানো এবং বিভ্রান্তিকর নেতিবাচক প্রচারণার অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কোনো বিবেচনাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিগত সময়ের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক ভিত্তিকে পুনর্গঠন করে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান প্রশাসন নানামুখী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ উদার ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কোনো অশুভ শক্তি যেন তা নস্যাৎ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রতিটি নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নেতৃত্বে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সাথে নিয়েই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎ পর্ব চলাকালে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে সুবিধাজনক সময়ে তীর্থস্থানটি পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আশ্বাস দেন।
বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), কমিটির উপদেষ্টা আহসান হাবিব অপু ও সমেন কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ মণ্ডলসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন