অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য ব্যবধানে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দেশটি থেকে রাসায়নিক কাঁচামাল ও ডাইস আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পাটের সুতা ও আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ কেনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা পাকিস্তান সফরে গেলে সেখানকার শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক ও বায়ারদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে ওষুধ ও সুতা কেনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আনুষ্ঠানিক আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার এই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ সোহেল এবং মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম অংশ নেন। তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এলেও সে তুলনায় পাকিস্তানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি নগণ্য বলে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পাকিস্তানের সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে জানানো হয়, সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশে ৭১৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর বিপরীতে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে তাদের মোট আমদানির আর্থিক পরিমাণ ছিল মাত্র ৬৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা দেশটির রপ্তানির তুলনায় প্রায় দশ গুণ কম। পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় পাকিস্তানের রপ্তানি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানিও ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। দ্বিপাক্ষিক এই বিশাল ব্যবধান কমাতে পাকিস্তান থেকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য কেমিক্যালস ও ডাইস আমদানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন বিজিএমইএ সভাপতি।
তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চমানের জুট ইয়ার্ন ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বড় পরিসরে আমদানির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। এসব প্রস্তাবে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকেরা পাকিস্তান সফরে গেলে সেখানকার শীর্ষ আমদানিকারক, ব্র্যান্ড ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট বিটুবি বৈঠক এবং ম্যাচ-মেকিং সেশনের আয়োজন করা হবে। আলোচনায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য রূপরেখা গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়।
বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করছে, তা উত্তরণ প্রক্রিয়ার পর পরিবর্তিত হবে। ফলে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য প্রবাহ নিরাপদ রাখতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত দ্বিপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগার সমস্যাটি তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, শিপিং জটিলতা কমিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার সময়সীমা দ্রুত হ্রাস করা প্রয়োজন।
উভয় দেশের যৌথ সহযোগিতায় পরিবহন খাতের এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির সঙ্গে পাকিস্তানের শীর্ষ ফ্যাশন ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের প্রস্তাব দেন এবং যৌথ টেক্সটাইল প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন