অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং তেহরানের ওপর নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ কূটনৈতিক ভাষণে তিনি এই বার্তা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই বলে জোর দিয়েছেন তিনি।
ভাষণে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ব্যর্থতা তুলে ধরে সতর্কবার্তা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আব্বাস আরাগচি কূটনীতিকদের সামনে উল্লেখ করেন যে চলমান উত্তেজনার কোনো সামরিক সমাধান নেই এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের ওপর ভিত্তি করেও কোনো বাস্তবিক সমাধান অর্জন করা যাবে না। তিনি বলেন, একমাত্র পারস্পরিক আলোচনা, ন্যায়বিচার এবং উভয় পক্ষের কূটনৈতিক মর্যাদাবোধের ওপর ভিত্তি করে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই এই জটিল পরিস্থিতির সুষ্ঠু মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়াই কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ও বেআইনি আগ্রাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তির পথ উন্মুক্ত করতে পারে।
তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে ওয়াশিংটন যদি আলোচনার পথ পরিহার করে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নেয়, তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও জোরালোভাবে প্রয়োজনীয় সমস্ত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূচনা ঘটে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান কৌশলগত জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সংঘাত তীব্র রূপ ধারণ করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।
পরবর্তীতে গত ১৮ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক কাঠামোগত চুক্তির পর থেকে যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এই চুক্তির কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীর মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর কৌশলগত জলপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজের স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে তদারকির আওতায় রেখে একটি টেকসই ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন