শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
সাবেক ফুটবলার

মেসির সতীর্থ ও দিবুর বন্ধু, এখন শাকসবজি বিক্রি করেন এই ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

মেসির সতীর্থ ও দিবুর বন্ধু, এখন শাকসবজি বিক্রি করেন এই ফুটবলার

একসময় লিওনেল মেসি ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার যুব জাতীয় দলে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সঙ্গে খেলা এবং রিভার প্লেটের অন্যতম সম্ভাবনাময় যুব ক্যাটাগরির অংশ থাকা সত্ত্বেও অপ্রত্যাশিত এক মোড়ে পেশাদার ফুটবল ছেড়ে এখন গ্যাস সিলিন্ডার, আলু ও শাকসবজি সরবরাহের কাজ করছেন গঞ্জালো ওলিদ আপাজা।

১২ বছর বয়সে রিভার প্লেটে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার প্রতিদিন সান মিগুয়েল থেকে যাতায়াত করে অনুশীলন করতেন। তিনি এরিক লামেলা, লিয়ান্দ্রো গঞ্জালেস পিরেজ ও রদ্রিগো রের সাথে ১৯৯২ ব্যাচের অংশ ছিলেন এবং যুব বিভাগে পাঁচটি শিরোপা জিতেছিলেন। তবে মূল দলে স্থান পাকা করতে না পেরে নিচের দিকের লিগে খেলতে বাধ্য হন তিনি। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলা এই ফুটবলার ২০০৯ সালের দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশ্বকাপে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সঙ্গে খেলেছিলেন। ইনফোবে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মার্টিনেজের আত্মবিশ্বাস তখন যেমন ছিল, এখনো ঠিক তেমনই আছে এবং তার সাফল্যে তিনি মোটেও অবাক নন।

নাইজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগে সিনিয়র জাতীয় দলের অনুশীলনের সঙ্গী হিসেবে মেসি ও ম্যারাডোনার সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন কোচ ম্যারাডোনা ম্যাচের রেফারি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন এবং প্রতি বুধবারে তারা তারকাদের সাথে অনুশীলন করতেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অনুশীলনের মাঝখানে মেসির সঙ্গে খেলার অনুভূতি এতটাই অবাস্তব ছিল যে নিজেকে চিমটি কাটতে হতো। টিএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, মেসি অর্ধেক শক্তিতে খেললেও মনে হতো তিনি শতভাগ সামর্থ্য দিচ্ছেন।

রিভার প্লেটে সুযোগ না পেয়ে দেপোর্তিভো মেরলো, ডিফেনসোরেস দে বেলগ্রানো ও কামবাসেরেসের মতো ক্লাবে খেলেছেন আপাজা। বাস্তবতার পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত কঠোর, যেখানে মাঝে মাঝে পর্যাপ্ত পোশাক বা গরম পানিও মিলত না। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কামবাসেরেসের একটি ম্যাচের পর ফুটবল উপভোগ করা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বাবাকে ফোন করে পেশাদার ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান।

পানির জার সরবরাহকারী এক বন্ধুর মাধ্যমে প্রথম কাজের সুযোগ পান তিনি। পরবর্তীতে ফুটবল খেলে জমানো টাকা দিয়ে একটি ট্রাক কিনে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন। বর্তমানে তিনি একটি সরবরাহ সেবা পরিচালনা করেন, যা বিভিন্ন বাজার, বার ও রেস্তোরাঁয় শাকসবজি পৌঁছে দেয়। পেশাদার ফুটবল ছাড়লেও খেলা সম্পূর্ণ বাদ দেননি জানিয়ে তিনি বলেন যে এই সিদ্ধান্তে তিনি অত্যন্ত সুখী।