রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি মানা হবে না

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি মানা হবে না

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলেও দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে জেলা ও মহানগর এলাকার মণ্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা তুলে ধরেন। ঢাকা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে এই দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখানো যাবে না বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের এক সুপ্রাচীন ও গৌরবময় সামাজিক ঐতিহ্য। বাংলাদেশের জনগণ পারস্পরিক ধর্মীয় উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে এই মেলবন্ধনকে যুগ যুগ ধরে সুদৃঢ় করে আসছে। এই অন্তর্নিহিত সামাজিক ঐক্য অটুট রাখতে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সরকারপ্রধান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে এ দেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ে কৃত্রিম বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই, বরং জাতীয় পরিচয়ে আমরা সবাই বাংলাদেশি। তাই দেশপ্রেম ও ঐক্যকে ধারণ করে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় অগ্রযাত্রায় সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কঠোর প্রশাসনিক সমন্বয়ের রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের প্রত্যক্ষ সমন্বয়ে সমস্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখবে। আনুষ্ঠানিক পূজা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতিমূলক মহড়া জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি। বিশেষ করে ভোররাতের ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা টহল ও বাড়তি পাহারার ওপর তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।

পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর নিজস্ব দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও মণ্ডপের প্রাথমিক নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিচালনা কমিটিকে অগ্রগণ্য বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে কার্যকর সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি। কোনো প্রকার নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মণ্ডপে নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি। নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুবিধার্থে মণ্ডপগুলোতে পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ নির্ধারণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া রাজপথের যানজট নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ এবং মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে মোতায়েন থাকবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও নির্দেশনা দেন যে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বিসর্জন শোভাযাত্রা বা অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাদক সেবন কিংবা যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত নারী আসন-১১ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। সভায় ঢাকা জেলা ও মহানগরের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।