অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি চালুর পাশাপাশি কথিত লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদ ঠেকাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কঠোর আইন প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রোববার কলকাতায় এক প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাট রাজ্যের অনুসরণে পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের অভিন্ন পারিবারিক ও দেওয়ানি আইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজ্য পরিচালনা ও ঐতিহ্য সুরক্ষায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্য সরকার ভারতীয় সংবিধানের মূল চেতনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ওপর কোনো ধরনের আঘাত বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে যেকোনো প্রকার তথাকথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্মিলিতভাবে রুখে দিতে তিনি রাজ্যের সর্বস্তরের জনগণকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বর্তমানে বিয়ে, বৈবাহিক বিচ্ছেদ, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো পারিবারিক বিষয়গুলোতে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি আইনের খসড়া তৈরির কাজ পর্যালোচনা করছে। বিগত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্যজুড়ে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়ন করা।
অনুষ্ঠানে ধর্মীয় পর্যটন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে ধর্মীয় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে এক হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক পতনের পেছনে নানাবিধ কারণ থাকলেও হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক সংগঠন, উপাসনালয় ও প্রাচীন ঐতিহ্যে বারবার আঘাত হানাই তাদের ক্ষমতাচ্যুতির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
নিজ প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, আগামী নভেম্বর মাসে কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে প্রায় বিশ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে আগামী ২৯ ডিসেম্বর দশ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশে মহা গীতা পাঠের সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছরের ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাসাগর মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলতে প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন