অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে আনা হয়। প্রয়োজনীয় বিচারিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে পুনরায় ঢাকার ওই হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। আদালতে হাজির করার সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন দেখা যায়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী জানান, তানভীর বর্তমানে জটিল শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং তার কোমর থেকে নিচের অংশ সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেছে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করছেন। আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রকাশ্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তানভীরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিপূর্বে পুলিশি রিমান্ড ও কারা হেফাজতে থাকার সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ও মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ নিয়মে এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আদালতে সময়ের আবেদন করা হয়। আইনজীবী জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ধার্য তারিখে সশরীরে উপস্থিতি প্রমাণ করতেই জীবনের বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে বগুড়ায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তার নিয়মিত চিকিৎসা চলবে। এর আগে গত ৫ আগস্ট ভোরে রাজধানীর মিরপুরের মণিপুরীপাড়া এলাকা থেকে তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই দিনই তাকে বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে ১০ আগস্ট তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও কারাগারে অবস্থানকালে তানভীর ব্রেন স্ট্রোক, প্যানিক ডিজঅর্ডার এবং সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের মতো মারাত্মক জটিলতায় আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ তাকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন