অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
দেশের তরুণ সমাজের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আগামী ডিসেম্বরে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার বিকাশে কর্মসংস্থানই মূল চালিকাশক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উপদেষ্টা জানান, দেশের বিশাল জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাস্তবায়নে আগামী ডিসেম্বর মাসে রাজধানী ঢাকা থেকে এই বিশেষ এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এবং ক্যারিয়ার মেলার প্রাথমিক কার্যক্রমের সূচনা ঘটবে। পরবর্তীতে এই সমন্বিত কর্মপ্রয়াস পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করা হবে। দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণদের ক্ষমতায়নকে প্রধানমন্ত্রী অপরিহার্য বিবেচনা করেন বলেই তাদের সুপ্ত সৃজনশীলতাকে সরাসরি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বিগত ছয় মাস ধরে ব্যাপক অংশীজন বৈঠক হয়েছে।
মাহ্দী আমিন জানান, গত ছয় মাসব্যাপী শিল্পোদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় শেষে সর্বসম্মত নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডিসেম্বরে এই কার্যক্রম উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এই প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রীয় কাজ হবে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের সার্বিক চাহিদা এবং কর্মীদের জোগানের মধ্যে বাস্তবমুখী সমন্বয় সাধন করা। মূলধারার সাধারণ শিক্ষার বাইরে থাকা প্রান্তিক যুবসমাজসহ নতুন স্নাতকদের সরাসরি আধুনিক কর্মসংস্থানের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক সংস্থার শূন্য পদের চাহিদার সাথে মিল রেখে কর্মক্ষম যুবশক্তির যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাঙ্গনের সাথে শিল্প খাতের দূরত্ব কমাতে দেশজুড়ে নিয়মিত ক্যারিয়ার মেলার আয়োজন চলবে।
দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থানবান্ধব বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান উপদেষ্টা। এর আওতায় চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেফারেল সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে অভিবাসনপ্রত্যাশী তরুণদের এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের পর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সাথে যুক্ত করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
গত চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী শিল্পকারখানার পরিস্থিতি নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বৈরী পরিস্থিতির মুখে কিছু কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যাটি অনেকটাই কম। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনেক কারখানা চালু হয়েছে এবং সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ও কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ করে তোলাই বর্তমানের প্রধান অগ্রাধিকার হলেও ভবিষ্যতে বেকার ভাতা চালুর বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন