মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস

লাতিনদের সমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প: রেকর্ড দরপতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

লাতিনদের সমর্থন হারাচ্ছেন ট্রাম্প: রেকর্ড দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত ভোটারদের সমর্থন আশঙ্কাজনক হারে হারাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জনমত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি গ্রহণযোগ্যতা নেমে এসেছে মাত্র ২৪ শতাংশে। নিজের দুই মেয়াদের কোনোটিতেই লাতিনদের মাঝে তার জনসমর্থন এতটা নিচে নামেনি। সোমবার সমাপ্ত হওয়া ছয় দিনব্যাপী ওই জরিপে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন অবস্থানে অবস্থান করছে। মাত্র ৩২ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের প্রতি ইতিবাচক সমর্থন জানিয়েছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসেও পরিচালিত জরিপে এই সমর্থন ছিল সমান ৩২ শতাংশ।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লাতিন জনগোষ্ঠীর ভোটারদের মাঝে ট্রাম্পের জনসমর্থন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। পিউ রিসার্চ সেন্টারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ শতাংশ এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস ৫১ শতাংশ লাতিন ভোট পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৩৬ শতাংশ ভোট। বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে এই জনগোষ্ঠীর বাড়তি সমর্থনই ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল। সর্বশেষ জরিপে সেই জনভিত্তি কার্যত ধসে পড়েছে।

আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫২ শতাংশ লাতিন আমেরিকান ভোটার ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ ভোটার। ফলে এই নির্বাচনকে সরাসরি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতিমালার ওপর এক ধরনের জাতীয় গণভোট হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের ব্যালটেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে কি না। ট্রাম্পের এমন নজিরবিহীন জনপ্রিয়তা হ্রাসের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ট্রাম্পের প্রশাসনিক ও আইনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন মারাত্মক বাধার মুখে পড়বে।

রিপাবলিকান পার্টির নিজস্ব শিবিরের ভেতরেও ট্রাম্পের নীতি নিয়ে দৃশ্যমান অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মারিয়া এলভিরা সালাজার গত মাসে প্রকাশিত একটি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে সরাসরি ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে লাতিন নাগরিকরা তাকে ক্ষমতায় বসাতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা বর্তমান বাস্তবতায় নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। তিনি ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন আইনের কড়া সমালোচনা করে উল্লেখ করেন, কোনো অপরাধের নজির নেই এমন সাধারণ অভিবাসীদের নির্বিচারে আটক ও দেশ থেকে বহিষ্কার করার মতো পদক্ষেপগুলো সমস্ত গ্রহণযোগ্য সীমা লঙ্ঘন করেছে।

মার্কিন অর্থনীতিতে লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং সম্প্রতি ইরানের সাথে সর্বাত্মক যুদ্ধ বাঁধানোর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই দুই সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন ঝুলন্ত আসনে লড়তে যাওয়া রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থীদের ওপর।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে এখনো নিজের জয়ের ব্যাপারে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। ভোটগ্রহণের আগে তিনি দেশজুড়ে টানা ৩২ দিনের এক নিবিড় প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছেন। নিজের দলের প্রার্থীদের প্রচারণায় তার অংশগ্রহণ নিয়ে দলীয় অসন্তোষের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রার্থীরা প্রত্যেকেই চান তিনি যেন তাদের এলাকায় গিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন।