মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদিতে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

সৌদিতে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা জোরদারে যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার অবিলম্বে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স। জোটের সদস্য রাষ্ট্র সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক দেশটির সুরক্ষায় দ্রুত সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সদস্য দেশগুলো পূর্বে সম্মত হওয়া সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সৌদি আরবের মাটিতে দ্রুত মোতায়েনের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমন্বিত উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা সমন্বয় জোরদার করা। একই সাথে সম্ভাব্য যেকোনো বহিরাগত হুমকি প্রতিহত করতে তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

রিয়াদের ওই জরুরি বৈঠকে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলার প্রচেষ্টা এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত চলমান ধারাবাহিক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা হুমকিকে তিন দেশই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

একই সঙ্গে সৌদির নিরাপত্তাকে জোটের সব সদস্যের সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা। তিন দেশের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, এক সদস্যের সার্বভৌম নিরাপত্তা অন্য দুই দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সম্মিলিত এই অঙ্গীকারকে বাস্তবে প্রয়োগের উদ্যোগ যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তিন ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জোটের স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে তিন বছরের মেয়াদের জন্য মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেনার নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত সরকারি যৌথ বিবৃতিতে কতজন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হবে, কোন কোন নির্দিষ্ট সামরিক ইউনিট দায়িত্ব পাবে কিংবা কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বিস্তারিত সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।