অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। তবে পূর্বনির্ধারিত এই কর্মসূচির আগেই দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সরকার এমন পদক্ষেপ নিলে তা ভুল কৌশল হবে। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস দাবি করেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, তাকে এবং আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে গ্রেপ্তারের ছক কষছে কেন্দ্রীয় সরকার।
স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিয়ে চলমান আন্দোলন থামানো যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্নে তরুণ সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে দাবি করে সৌরভ জানান, প্রয়োজনে তারা কারাগারে যেতেও সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এরপর সিজেপির প্রধান অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে মন্তব্য ছুড়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কতজনকে গ্রেপ্তার করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কারণ ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সারা দেশের মানুষ জড়ো হবে।
এর আগে গান্ধীজয়ন্তীতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিশাল সমাবেশ করেছিল সংগঠনটি। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের নামে বিপুল বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং নানা কারচুপির অভিযোগ তুলে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। সেখান থেকেই দিল্লি চলো কর্মসূচির ঘোষণা দেন দীপকে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পদত্যাগ না এলে সারা দেশ থেকে তাদের কর্মী-সমর্থকেরা দিল্লিতে মিছিল নিয়ে ঢুকবেন। পথে পুলিশ বাধা দিলে সেই স্থানকেই বিকল্প যন্তর মন্তর বানিয়ে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংগঠনটি এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেও দিল্লিতে বিক্ষোভ করেছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন করেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ছররা গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাখো ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আগে থেকেই সরব রয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা ছোট করে নির্বাচন কমিশন মূলত ভারতীয় জনতা পার্টিকে বাড়তি নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন চলাকালে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে কাজ চালিয়ে গেছেন জ্ঞানেশ কুমার। গত ১০ মাসে তার বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে বাকি দুই কমিশনার সুখবিন্দর সিং সাঁধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জমা দিয়েছিলেন। তবে সেই আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে পাল্টা অভিযোগের জেরে চলমান ক্ষোভ থামেনি, বরং আগামী ১০ অক্টোবরের দিল্লির সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন