সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে দেশের স্বার্থ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে দেশের স্বার্থ

ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টিই মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত তিন দিনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‍‍`বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন‍‍`-এর সমাপনী অধিবেশনে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার কোনো আপস করবে না।

সম্মেলনের শেষ দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে দেশের নিরাপত্তা এবং পানির ন্যায্য অধিকার সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে ভারতের সঙ্গে তিন দশক মেয়াদি বর্তমান ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এই সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় চুক্তিটি বর্তমান শর্তেই নবায়ন করা হবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে—সে বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চান সংবাদকর্মীরা। জবাবে প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং ভৌগোলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে যা সর্বাধিক ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, সেই পথেই হাঁটবে ঢাকা।

ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পানি বণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশের হিস্যা নিশ্চিত করতে কোনো গ্যারান্টি বা বাধ্যতামূলক ধারা যুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়েও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো একক সূত্র দেননি। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকারের সব ধরনের কৌশলগত অবস্থানের মূল নিয়ামক হবে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ। দুই নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংলাপের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, উভয় দেশের সরকারি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। 

উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংলাপ মূলত শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক সফরের ওপর নির্ভর করে। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন কোনো সফর বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই সরকারি পর্যায়ের ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়ে উভয় পক্ষের জন্য একটি অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা আবশ্যক। হুমায়ুন কবিরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় সংলাপের এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পানি কূটনীতি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বোঝাপড়ার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়া রাতারাতি সম্পন্ন করা যায় না। কেবল একটি দিনক্ষণ ঘোষণা করে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ের সমাধান বের করা বাস্তবসম্মত নয়।

এদিকে আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরের আনুষ্ঠানিক তথ্য বাইরের কোনো প্রতিবেদন বা তৃতীয় কোনো সূত্রের মাধ্যমে নয়, বরং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক চ্যানেল থেকেই যথাযোগ্য সময়ে প্রকাশ করা সমীচীন।