সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গোৎসব

বীরগঞ্জে ৩০ লাখের বাজেটে তৈরি বিশাল পূজামণ্ডপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

বীরগঞ্জে ৩০ লাখের বাজেটে তৈরি বিশাল পূজামণ্ডপ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ডাবরাপাড়া বকবাড়ী সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এবার প্রায় ৩০ লাখ টাকার মেগা আয়োজন চলছে। জেলার সবচেয়ে বড় এই মণ্ডপের প্রধান আকর্ষণ নব্বই ফুট উঁচু একটি রাজকীয় তোরণ। তোরণের ঠিক সামনের বিশাল পুকুরে আধুনিক একটি সেতু তৈরি করা হয়েছে। সেতুটি পুকুরের মাঝামাঝি গিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মূল আঙিনায় প্রবেশ করেছে। ধর্মীয় পূজায় ধর্মীয় ইতিহাস প্রতিপাদ্যে মণ্ডপটিতে রামায়ণ ও মহাভারতের নানা খণ্ডচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিশু ও কিশোরদের মাঝে সনাতন ধর্মের শিকড় তুলে ধরতে আয়োজকেরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে আছেন দলুয়া গ্রামের কারিগর মধুসূদন। দুই মাস ধরে ছেলে ও কয়েকজন সহকারী নিয়ে তিনি কাজ করছেন। তিনি জানান, শুধু প্রতিমা তৈরিতেই বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। মণ্ডপের আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনের দায়িত্ব পেয়েছে দ্যুতিরাজ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কারিগর রইসুল ইসলাম তেলু জানান, প্রায় ৩৫ জন শ্রমিক দুই মাস ধরে দিনরাত খাটছেন। ডেকোরেশন, সেতু, আলো ও শব্দব্যবস্থায় মোট খরচ হচ্ছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। শ্রমিকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে পূজা উদযাপন কমিটি। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য তাদের।

পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য তুষার রায় জানান, পূজার মোট বাজেট নির্দিষ্ট না হলেও তা ২৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ সরকারি বরাদ্দ ছাড়া অন্য কোনো বড় আর্থিক সহায়তা মেলেনি। পল্লী বিদ্যুতের স্বাভাবিক নিয়মে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর ও রংপুর থেকে বীরগঞ্জ হয়ে গোলাপগঞ্জ রোড ধরে স্বাধীন ব্রডকাস্টের পশ্চিম পাশের পাকা রাস্তা দিয়ে মণ্ডপে পৌঁছানো যায়। পঞ্চগড়, বোদা, সাকোয়া ও ভুল্লী থেকে গরেয়া হাট ও ডাঙ্গার হাট হয়ে আসা সম্ভব। ঠাকুরগাঁও থেকে আঠাশ মাইল হয়ে জিন্দাপীর মেলার রাস্তা দিয়ে মণ্ডপের দূরত্ব চার কিলোমিটার। কবিরাজ হাট থেকে দূরত্ব সাত থেকে আট কিলোমিটার।

আয়োজনের মধ্যেই ওয়াকিটকি ব্যবহার নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দ্যুতিরাজ ডেকোরেশনের এক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকেরা বৈধ নথি দেখতে চাইলে ওই ব্যবস্থাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হরিদাস রায় মুঠোফোনে জানান, তিনি ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানাবেন। তবে পরে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি।