মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
পর্যটনে নতুন দিগন্ত

কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল ৯ বছর পর ফিরছে উৎসব

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল ৯ বছর পর ফিরছে উৎসব

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ নয় বছর পর আবারও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ফিরছে বহু প্রতীক্ষিত বিচ কার্নিভাল। পর্যটকদের আকর্ষণ বৃদ্ধি এবং কুয়াকাটাকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুদিনব্যাপী কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে। বড় এই আয়োজনকে ঘিরে দক্ষিণ উপকূলের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুয়াকাটার পর্যটন হলিডে হোমসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুস্থ বিনোদন এবং সার্বিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এই সভার আয়োজন করে। সংস্থার চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, ট্যুরিস্ট পুলিশের বরিশাল বিভাগীয় উপমহাপরিদর্শক অর্নিবান চাকমা, সহকারী কমিশনার ভূমি ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা টোয়াকের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, হোটেল ও মোটেল মালিক এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা এতে অংশ নেন। আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

দুদিনের এই আনন্দায়োজনে যুক্ত থাকছে বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে সৈকত ক্যাম্পিং, সৈকত ফুটবল প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞান কুইজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিচ উৎসব এবং ঐতিহ্যবাহী পুঁথিপাঠ। পাশাপাশি পটুয়াখালীর স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য, আঞ্চলিক খাবার ও সংস্কৃতিকে আগত দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরতে পৃথক স্টল ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। কার্নিভালকে কেন্দ্র করে সমুদ্রসৈকত ও সংলগ্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সৈকতজুড়ে ব্যাপক সাজসজ্জার প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ সময় পর এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয় আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ মালিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এই কার্নিভালের মাধ্যমে পর্যটক সমাগম বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা কেটে গিয়ে সৈকতের অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটাকে কেবল একটি বালুকাময় সৈকত হিসেবে দেখলে চলবে না, একে একটি আধুনিক পূর্ণাঙ্গ পর্যটন নগরী হিসেবে রূপান্তর করতে হবে। পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, বিনোদন কেন্দ্র ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটলে স্থানীয় জনসাধারণের বহুমুখী কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ভিত্তি পাবে। এই রূপান্তরের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য, একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকনের দুর্লভ সুযোগ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির কারণে পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটার আলাদা কদর রয়েছে। তবে পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, বছরজুড়ে নিয়মিত বড় উৎসবের আয়োজন, যাতায়াত ব্যবস্থার সার্বিক উন্নতি এবং পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। আগামী ২৩ অক্টোবরের কার্নিভাল সেই সম্ভাবনার পথকে সুগম করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।