সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের জরুরি বৈঠক ডাকল তিন দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের জরুরি বৈঠক ডাকল তিন দেশ

সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী রিয়াদে কৌশলগত জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট। সোমবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সদস্য দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা একযোগে অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে জানা গেছে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। 

উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ উপস্থিত রয়েছেন। একই বৈঠকে সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সশরীরে অংশ নিয়ে যৌথ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া তিন দেশের প্রতিনিধিরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং মক্কা চুক্তির কাঠামোর আওতায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উপায় খতিয়ে দেখছেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, বৈঠকে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতিমধ্যে রিয়াদে পৌঁছেছেন। সেখানে পৌঁছালে সৌদি সামরিক বাহিনীর মেজর জেনারেল উসমান আল-জাহরানি এবং দেশটিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আহমাদ ফারুক তাকে স্বাগত জানান। এর আগে তিনি মদিনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত ও সেখানে বিশেষ নামাজ আদায় করেন।

গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার এই বৈঠকের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের সর্বশেষ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া নির্ধারণেই এই জরুরি আয়োজন। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে এই উত্তেজনার মধ্যেই রোববার থেকে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরব কয়েক ডজন বিমান হামলা চালানোর পরই তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রিয়াদের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। 

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। ন্যাটোর আদলে গঠিত এই ত্রিপক্ষীয় জোটের মূল লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যেখানে কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণকে জোটের সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার যৌথ অঙ্গীকার রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জোটের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, প্রথম তিন বছর জোটের মূল সচিবালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে পাকিস্তান। পরবর্তীতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর আগে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রিয়াদে চুক্তির আওতায় তিন দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা একটি জরুরি বৈঠক করেছিলেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের আকাশ ও ভৌগোলিক নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত রয়েছে বলে নিজেদের সামরিক অবস্থানের কথা আগেই স্পষ্ট করেছে দেশটি।