অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল এই বিশেষ পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যটিতে মোট ১০৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। নতুন নির্দেশের আওতায় সাধারণ টিকাদান নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে রাজ্য প্রশাসন। এখন থেকে নিবন্ধিত নার্সরা সরাসরি সন্দেহভাজন রোগীর হাম পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন। একই সাথে ফার্মাসিস্টদের দুই বছর বয়সি শিশুদেরও হাম, মাম্পস ও রুবেলার যৌথ এমএমআর টিকা প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ১০৮ জন আক্রান্তের মধ্যে সাতজন নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দা। বাকি ১০১ জন অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শনাক্তদের মধ্যে ৯২ জনের হাম ধরা পড়েছে গত ১৫ জুলাইয়ের পর। আক্রান্ত ব্যক্তিরা মূলত অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ ১৮টি এলাকার অধিবাসী, যেখানে সাধারণ টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। পরিস্থিতি তুলে ধরে গভর্নর ক্যাথি হকুল জানান, যে রোগটি সাধারণ টিকার মাধ্যমে পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব, সেই রোগে আক্রান্ত হয়ে কারো গুরুতর অসুস্থ হওয়া কিংবা প্রাণ হারানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিউইয়র্কের পাশাপাশি প্রতিবেশী পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে হামের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন রূপ নিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত অঞ্চলটিতে এক হাজার চারটি সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং পাঁচজন মারা গেছেন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে হামের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। এর বাইরে টেক্সাস, ইউটা, ওহাইও এবং সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যেও ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন হাজার ৯০০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর দেশটিতে আর কখনো এমন ব্যাপক সংক্রমণ দেখা যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, সামগ্রিক টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার কারণেই রোগটি পুনরায় জেঁকে বসেছে। অথচ ২০০০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী নভেম্বর মাসে প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো তাদের হামমুক্ত দেশের বৈশ্বিক মর্যাদা ধরে রাখতে পারছে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন