রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্য সংকট

ইরান বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

ইরান বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওহাইও সফরের উদ্দেশে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের সামনে এখন সহজ অথবা কঠিন পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অবস্থান থেকে তেহরান প্রায় পুরোপুরি সরে এসেছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।   

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘ অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপে ইরান বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়েছে। তার কথায়, একমাত্র প্রশ্ন হলো প্রক্রিয়াটি সহজ পথে এগোবে নাকি কঠিন পথে।   মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা থমকে থাকার মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এই বার্তা এলো। ইরান ও ইয়েমেন পরিস্থিতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে ক্যাম্প ডেভিডে জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   

সরাসরি সংঘাতের অষ্টম মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রোধ করা। শনিবার ট্রাম্প পুনরায় বলেন, ইরান প্রায় সব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চিন্তা থেকে সরে গেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তেলের দাম আগের চেয়ে কমছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যৌথ সামরিক উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদের তুলনায় বর্তমানে তেলের দাম নিম্নমুখী দাবি করে ট্রাম্প পূর্বসূরিদের সমালোচনা করেন এবং বলেন তারা তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে থামাতে পারেনি। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। 

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে ধর্মীয় নির্দেশনার কারণে তাদের অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই। আন্তর্জাতিক নজরদারিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে আনার আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও তেহরান সাফ জানিয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।   তথ্যসূত্র: আনাদোলু