অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
লাটভিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ও ইউক্রেনপন্থী রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড লিস্ট। ভোট গণনার ৮৮ শতাংশ পর্যন্ত ফলাফলে দলটি প্রায় ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনতাবাদী দল লাটভিয়া ফার্স্ট। লাটভিয়া ফার্স্ট পেয়েছে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সার্বভৌম শক্তি নামের দলটি পেয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ছিল গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুলবার্গের জন্য প্রথম বড় কোনো নির্বাচনী পরীক্ষা। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পূর্ববর্তী সরকারের পদত্যাগের পর তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। ইউক্রেন থেকে বিচ্যুত একটি ড্রোন লাটভিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়ার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ক্ষোভ তৎকালীন সেই রাজনৈতিক সংকটকে আরও তীব্র করেছিল।
এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫০ শতাংশের কিছু বেশি। লাটভিয়ার স্বাধীনতার পর এটি ছিল দেশটির ১৫তম পার্লামেন্ট বা সায়েমা নির্বাচন। এবারের নির্বাচনী প্রচারের একদম কেন্দ্রে ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো। ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশ হওয়ায় লাটভিয়ার রাজনীতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযানের পর থেকে লাটভিয়া প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে এখন মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। এর পাশাপাশি কম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা হ্রাসের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনে ইউনাইটেড লিস্ট বড় জয় পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের নেই। ফলে নতুন সরকার গঠনে তাকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে হবে। বর্তমান জোটের দুই শরিক দলের অবস্থান এবার দুর্বল হয়ে যাওয়ায় নতুন জোট গঠনের এই আলোচনা বেশ জটিল হতে পারে।
লাটভিয়ার পার্লামেন্টে মোট আসন রয়েছে ১০০টি। এখানে প্রবেশের জন্য একটি দলকে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এবারের নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। আংশিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ইউনাইটেড লিস্টের পাশাপাশি লাটভিয়া ফার্স্ট, সার্বভৌম শক্তি, ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স, প্রগ্রেসিভস এবং নিউ ইউনিটি ৫ শতাংশের সীমা পার করেছে। লাটভিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল ১৯ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদিত হবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জয়ের ফলে লাটভিয়ার ইউরোপমুখী ও ইউক্রেনপন্থী পররাষ্ট্রনীতি অব্যাহত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন