রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গোৎসব প্রস্তুতি

শেরপুরে ১৭১ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

শেরপুরে ১৭১ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা

শেরপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভার মোট ১৭১টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত ধাপে। ঐতিহ্যবাহী পালপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপগুলোতে মৃৎশিল্পীরা বাঁশ, কাঠ, খড় ও কাদামাটি দিয়ে দেব-দেবীর রূপ ফুটিয়ে তুলতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব মণ্ডপের কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করার চাপ রয়েছে কারিগরদের ওপর। কারিগরি প্রক্রিয়ার বিষয়ে মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রথমে কাঠ, বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার মূল কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় নিপুণ হাতে মাটির প্রলেপ বসিয়ে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অবয়ব দৃশ্যমান করা হয়। মাটির স্তর পুরোপুরি শুকিয়ে এলে শুরু হবে রঙের প্রলেপ ও শেষ মুহূর্তের অলঙ্করণ।

তবে বর্তমান বাজারপরিস্থিতিতে প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন কারিগররা। তাদের বক্তব্য, বাঁশ, খড়, সুতলি ও রঙের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেলেও আয়োজকদের কাছ থেকে প্রতিমার কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক মিলছে না। তারপরও পূর্বপুরুষের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পেশার প্রতি ভালোবাসা থেকেই সব আর্থিক সংকট চেপে রেখে তারা প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মণ্ডপগুলোর সার্বিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, এবার আনন্দঘন পরিবেশে ১৭১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে তাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নজরদারিতে থাকবে। এর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জোরালো দাবি জানান তিনি।