অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে নিজেদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭। একই সাথে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো ধরনের নতুন বিধিনিষেধ আরোপ না করার আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর তাদের নিজস্ব জরুরি ডিজেল মজুত হ্রাস করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে ওয়াশিংটন। কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে ডিজেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে বলে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে কঠোর সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল। এমন আশঙ্কায় ইউরোপীয় দেশগুলোতে সরবরাহ সংকটের চরম উদ্বেগ তৈরি হয়, কারণ তাদের অর্থনীতি বর্তমানে মার্কিন ডিজেল আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে লাফিয়ে বাড়া জ্বালানির মূল্য হ্রাস করাই ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে পূর্ববর্তী হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসে শুক্রবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করবে না।
জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ-এর মাধ্যমে সমন্বিত পরিকল্পনায় এই ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি মজুত ছাড়ার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরবর্তী চার মাসব্যাপী চলমান থাকবে এবং আগামী ২০ দিনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছেড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তবে এই সামগ্রিক কোটায় অপরিশোধিত তেল, ডিজেল ও অন্যান্য তরল জ্বালানির সুনির্দিষ্ট অনুপাত কত হবে কিংবা কোন সদস্য দেশ কতটা জোগান দেবে, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে গত মার্চ মাসে আইইএ-এর তত্ত্বাবধানে ৪০ কোটি ব্যারেল মজুত ছাড়ার নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছেন, সেই চুক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এদিকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজ দেশেই ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আন্তর্জাতিক এক সাম্প্রতিক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের সার্বিক জনসমর্থনের হার ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন স্তর। একই সাথে অস্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তার নেওয়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
জি-৭ জোটের এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সমান্তরালে ইউরোপীয় দেশগুলো ফ্রান্সের উত্থাপিত একটি বিশেষ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করেছে। ওই প্রস্তাবে ইউরোপের নিজস্ব মজুত থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার অন্যান্য সদস্য দেশের মজুত থেকে আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি ছাড়ার সুপারিশ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, এই ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল গোটা ইউরোপীয় ব্লকের জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশের সমতুল্য।
বিপুল পরিমাণ এই মজুত বাজারে ছাড়ার আনুষ্ঠানিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচার মূল্য হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন