শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ

জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আক্তারুজ্জামান গ্রেপ্তার দাবি পরওয়ারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আক্তারুজ্জামান গ্রেপ্তার দাবি পরওয়ারের

ছবি: দিনাজপুর টিভি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করার ক্ষোভ থেকেই সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ তোলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরী জামায়াত এই সমাবেশের আয়োজন করে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম, চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলার পূর্ণ নাগরিক অধিকার আখতারুজ্জামানের রয়েছে। তিনি প্রয়োজনে ব্যর্থ ও অদক্ষ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন। কিন্তু সরকার বিমানবন্দরের ওই সাধারণ ঘটনাকে অজুহাত বানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে, যা চরম রাজনৈতিক আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ। 

অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি আবারও বীরোচিত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন উল্লেখ করে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও রিমান্ড বাতিলের দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে জামায়াত নেতা বলেন, তার পিতা-মাতা জীবদ্দশায় জামায়াত বা ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়ে যেসব মন্তব্য করেননি, এখন তিনি নিজেকে তাদের চেয়ে বেশি বিচক্ষণ মনে করে সেসব কথা বলছেন কি না। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত আখ্যা দেওয়ার আগে শাসক দলের নিজেদের অতীত ভূমিকা দেখা উচিত। কারণ খালেদা জিয়ার ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় তাদের বহু নেতাকর্মী গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও জামায়াত কর্মীরাই রাজপথে নেমে জীবন দিয়েছিলেন। 

এখন ক্ষমতায় এসে সরকারপ্রধান ও তার কিছু মন্ত্রী জামায়াতকে গুপ্ত ও স্বাধীনতা বিরোধী বলছেন, অথচ অতীতে যাদের সমর্থনে সরকার গঠন করা হয়েছিল তাদের এভাবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী কার্যত তার মায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শাহ আজিজুর রহমান, আব্দুর রহমান বিশ্বাস কিংবা বর্তমান রাষ্ট্রপতির পিতা মির্জা রুহুল আমিনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের অতীতে তারাই ক্ষমতার শীর্ষ পদে বসিয়েছিলেন। সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, আখতারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া পরিয়ে মূলত দেশের সমগ্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করার কথা ছিল, সেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি জানান, ঘটনার দিন জাতীয় সংসদের ৩৪ জন সংসদ সদস্য বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যূনতম প্রটোকল না দিয়ে হয়রানি করেছে। তিনি দাবি করেন, আখতারুজ্জামান কেবল সাধারণ প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছিলেন এবং এ বিষয়ে বিমানমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কারাবন্দি করা প্রমাণ করে এই প্রশাসন প্রবাসী বিরোধী রূপ ধারণ করেছে। ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন এবং ড. মোবারক হোসাইন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ও প্রেস ক্লাব অতিক্রম করে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।