অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এখন দেশের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জিডিপির অনুপাতে কর আদায় প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।
শনিবার বিকালে রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) আয়োজিত জাতীয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিযোগিতা ‘ইকোনথন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি মন্থর রয়েছে, অর্থায়নের খরচ গত দশকের তুলনায় বেশি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও শুল্ক-বাধা ক্রমশ বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক সংঘাত জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়কে অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিবছর নতুন অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী অর্থনীতিতে এই বৈশ্বিক ধাক্কাগুলোর সরাসরি প্রভাব পড়ে, যা বাজারে পণ্যের দাম, টাকার বিনিময় হার এবং কারখানার রপ্তানি আদেশে দৃশ্যমান হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রতিটি দিনই এক একটি ‘সারপ্রাইজ এলিমেন্টের দিন’, কারণ বাজেট অনুমানের বিপরীতে জ্বালানি দামের ধাক্কা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিংবা বন্যার মতো অনিশ্চয়তা সামনে আসে।
দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সমস্যা লুকিয়ে রেখে লাভ নেই, বরং তা স্বীকার করলেই সমাধানের পথ শুরু হয়।
ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরানো এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে রপ্তানিকে বাণিজ্য-সুবিধার বদলে প্রতিযোগিতার শক্তিতে দাঁড় করানোর ওপর জোর দেন তিনি। সরকারের স্পষ্ট অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনা, কর ব্যবস্থাকে ন্যায্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার অবিচল থাকবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন