অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
বঙ্গোপসাগরকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে চীন ও ভারতের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈরিতা কমাতে এবং দুই পরাশক্তির মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
দক্ষিণ এশিয়া এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে বাংলাদেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি শক্তিতে পরিণত হয়েছে। মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই বাংলাদেশের কাছে পাওয়ার মতো অনেক কৌশলগত সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ। এই বিশাল উপসাগর শুধু এই উপকূলীয় অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং গোটা ভারত মহাসাগরের সার্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।
ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভূ-রাজনৈতিক পরিকল্পনায় বঙ্গোপসাগরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম, যা বেইজিং ও নয়াদিল্লি উভয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য অপরিহার্য। ঢাকা সবসময় চায় পুরো বঙ্গোপসাগর এলাকা যেন যেকোনো পরাশক্তির সামরিক আধিপত্য ও বহিরাগত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি নিরাপদ ও উন্মুক্ত করিডোর হিসেবে টিকে থাকে।
একই সাথে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে চীনের ব্যাপক ভূ-কৌশলগত স্বার্থ বিদ্যমান রয়েছে। বাংলাদেশ যদি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত সরাসরি একটি কার্যকর স্থলপথ বা বাণিজ্যিক করিডোর তৈরির উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়, তবে এই আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ফলে ভারত ও চীন উভয় রাষ্ট্রই বিপুলভাবে লাভবান হবে।
এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অগ্রভাগে রয়েছে বাংলাদেশ। পরিবেশ বিপর্যয় এবং এর ফলে সৃষ্ট নতুন নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় দেশ এখন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঢাকার এই অগ্রণী ভূমিকা পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সমান ভূমিকা রাখবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন