অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে ছয় আরোহী নিয়ে একটি মেডিকেল ফ্লাইট মাঝ আকাশে নিখোঁজ হয়েছে। বারমুডা থেকে বোস্টনগামী বিমানটির হঠাৎ রেডিও ও রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আকাশ ও সমুদ্রপথে তল্লাশি শুরু করেছে মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলগুলো। নিখোঁজের আগে বিমানটি আকাশসীমায় প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে। পাইলট নিয়ন্ত্রক কক্ষে জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠিয়েছিলেন।
মার্কিন বিমান চলাচল সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গালফস্ট্রিম জি-১০০ মডেলের ওই বিমানটির সঙ্গে মধ্যরাতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপরই নানটাকেট দ্বীপের কাছে সমুদ্রে অনুসন্ধান শুরু হয়। ফ্লাইট সংক্রান্ত ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, বিমানটি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত দেড়টায় বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এর অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের পর সেটি প্রায় সাত হাজার ৩০০ মিটার উচ্চতা থেকে একপর্যায়ে তিন হাজার ৩০০ মিটারে নেমে আসে।
বিমানের টেইল নম্বর বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, যানটি ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেসের অধীন পরিচালিত হচ্ছিল। এটি রোগীদের চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক মেডিকেল ফ্লাইট পরিচালনা করে।
প্রতিষ্ঠানটির ফ্লাইট অপারেশন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানে দুজন পাইলট এবং দুজন মেডিকেল কর্মী ছিলেন। তারা চারজনই কানাডার নাগরিক। এছাড়া বিমানে একজন রোগী ও তার এক স্বজন ছিলেন, যারা অন্য দেশের নাগরিক।
বেতার যোগাযোগের রেকর্ড থেকে জানা যায়, মাঝ আকাশে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সঙ্গে পাইলটের কথা বলতে বিভ্রাট হচ্ছিল। পাইলটের কণ্ঠ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে আসার একপর্যায়ে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এর পরপরই উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত থাকার বার্তা পাঠানো হয়। বিমানে বৈদ্যুতিক জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে তখন জানানো হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজটির সঙ্গে রাডার ও রেডিও সব ধরনের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো সংকেত মেলেনি। নিখোঁজ আরোহীদের উদ্ধারে ম্যাসাচুসেটস উপকূলে নৌযান ও নজরদারি বিমান নিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন