রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
ইরানি অর্থনীতি

রেকর্ড দরপতনে ইরানি রিয়াল, বাজারে ২ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:২৩ এএম

রেকর্ড দরপতনে ইরানি রিয়াল, বাজারে ২ বিলিয়ন ডলার

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ ও গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতন হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলেও পতন ঠেকানো যায়নি।

শনিবার ইরানের মুক্তবাজারে এক মার্কিন ডলার বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ ৮৮ হাজার রিয়ালে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের দিন এই দর ছিল ২৬ লাখ ৩২ হাজার রিয়াল। অন্যদিকে মুদ্রাবাজার পর্যবেক্ষণকারী আরেকটি ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ডলারের দর ২৬ লাখ ৯৫ হাজার রিয়াল পর্যন্ত উঠেছে। রিয়ালের এই লাগামহীন পতন ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই বাজারে ডলার বিক্রি শুরু করেছে।

গত এক বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা অর্ধেকেরও বেশি মূল্য হারিয়েছে।

দেশটিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে খাদ্য ও বাসাভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই অসাধ্য হয়ে উঠেছে। রিয়ালের ওপর এই বিপুল চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ। এর ফলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডলারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক এই অনিশ্চয়তার মুখে অনেক নাগরিক নিজেদের সঞ্চয় রক্ষায় স্থানীয় মুদ্রার বদলে ডলার ও সোনায় বিনিয়োগ করছেন। এতে ডলারের চাহিদা আরও বাড়ছে এবং রিয়ালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বৈদেশিক মুদ্রাবিষয়ক সহযোগী মেহদি দারাবি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দাবি করেছেন, রিয়ালের বর্তমান পতন সম্পূর্ণ সাময়িক। তার মতে, ইরানি অর্থনীতি ধসে পড়ার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পূর্বাভাসই বাজারে এই নেতিবাচক মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

কয়েক দিনের ব্যবধানে ডলারের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছানো এবং একই সঙ্গে রেকর্ড মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের এই অর্থনৈতিক সংকট এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক আঘাত হানছে।