রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

শরতের কাশবনে হারিয়ে যেতে চায় মন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

শরতের কাশবনে হারিয়ে যেতে চায় মন

ধুলোবালি আর ইট-পাথরের যান্ত্রিক রাজধানীতে বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়ার পরিসর সীমিত হলেও ঋতু পরিবর্তনের ছোঁয়া ঠিকই লাগে নগরের বুকে। আশ্বিনের আকাশে কখনো ভেসে বেড়ায় তুলোর মতো শুভ্র মেঘের ভেলা, আবার কখনো ঝলমলে রোদ ভেদ করে নামে এক পশলা বৃষ্টি। ভাদ্র ও আশ্বিনজুড়ে বিরাজ করা শরৎকালকে রূপের কারণে বলা হয় ঋতুর রানি। নদীর তীর, মেঠোপথ আর খোলা প্রান্তরে ধবধবে সাদা কাশের দোলা নাগরিক ব্যস্ততার মধ্যেও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের কাছে টানছে। 

শহরের কোলাহল ও যাতায়াতের জটিলতায় যাদের ঢাকার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের জন্য রাজধানীর ভেতরে ও আশপাশেই গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি নয়নাভিরাম কাশবন। রাজধানীর ভেতর কাশফুল উপভোগ করার অন্যতম জনপ্রিয় ঠিকানা আফতাবনগর। রামপুরা সেতুর উত্তর-পূর্ব পাশে জহুরুল ইসলাম সিটির প্রধান ফটক পেরিয়ে কিছুটা এগোলে একটি লোহার সেতু চোখে পড়ে। সেই সেতু পার হয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার অতিক্রম করলেই দেখা মেলে বিস্তৃত কাশবনের। 

সবুজ ঘাসের গালিচার ওপর দিয়ে চলে যাওয়া প্রশস্ত সড়কের দুই পাশে ফুটে আছে কাশফুল, যার শেষ সীমানায় গিয়ে মিশেছে নদী। ভরা পূর্ণিমার রাতে কাশবনের ওপর চাঁদের রুপালি আলোর প্রতিফলন দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। আফতাবনগরে যেতে হলে রাজধানীর যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে রামপুরা ব্রিজে পৌঁছাতে হবে। ব্রিজের পাশেই আফতাবনগরের প্রধান প্রবেশদ্বার থেকে রিকশা পাওয়া যায়, যেখানে ভাড়া সাধারণত ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেওয়া হয়। ঢাকার উত্তরা এলাকার দিয়াবাড়ী প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে শরৎকালীন অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

এখানে নদীর পাড় ও খোলা চত্বরে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর কাশফুল জন্মায়। দিয়াবাড়ীর লেকের বাঁধানো পাড়ে বসে স্নিগ্ধ বাতাস উপভোগ করার পাশাপাশি রয়েছে নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কাশফুলের শুভ্রতা দেখতে এখানে মানুষের পদচারণায় মুখর পরিবেশ তৈরি হয়। শরৎকালে সকালের স্নিগ্ধ রোদে কিংবা বিকালবেলায় সূর্যাস্তের আলোয় ছবি তোলার জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান। যাতায়াতের ক্ষেত্রে দিয়াবাড়ী এখন অত্যন্ত সহজপ্রাপ্য। মেট্রোরেলে উত্তরা উত্তর স্টেশনে নেমে খুব সহজেই রিকশা কিংবা অটোরিকশায় চড়ে দিয়াবাড়ী পৌঁছানো যায়। এছাড়া উত্তরা বা মিরপুরমুখী বিভিন্ন বাসে চড়ে উত্তরার আজমপুর নেমে সেখান থেকে অটোরিকশা নিয়েও গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব।

রাজধানীর একেবারে কাছেই কেরানীগঞ্জের সারিয়াকান্দিতে নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে সুবিশাল কাশফুলের রাজ্য। অবারিত খোলা প্রান্তরে বাতাসের দোলায় ঢেউ খেলানো সাদা কাশের দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ক্লান্তি আর মানসিক অবসাদ কাটিয়ে মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়ার জন্য এটি একটি চমৎকার বিনোদনস্থল। এছাড়া ঢাকার ভেতরে ঢাকা উদ্যান, দক্ষিণখান ও তিনশত ফিট এলাকাতেও শরতের কাশফুলের সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করা যায়।