মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

কোনো সাব-রেজিস্ট্রার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে ঢাকায় রাখা হবে না

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

কোনো সাব-রেজিস্ট্রার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে ঢাকায় রাখা হবে না

কোনো সাব-রেজিস্ট্রার দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলে তাকে কোনোভাবেই রাজধানী ঢাকায় পদায়ন রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সাথে কথিত দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত দফতরগুলোর অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। নতুন এই বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারিতে রাখা হবে।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোর জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার পদে বদলি এবং পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ জনগণের মাঝে চরম নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়ে রয়েছে। রাতারাতি পুরো শাসনব্যবস্থা পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়, তবে কোথাও না কোথাও থেকে কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা করতে হয়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই লটারি পদ্ধতি চালু হলো। প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে ঢাকায় পদায়নকে একটি মূল্যবান বা লোভনীয় পোস্টিং হিসেবে গণ্য করা হয়।

সাধারণভাবে সংশ্লিষ্টদের মাঝে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত ছিল যে যাদের সাথে বিশেষ প্রভাব রয়েছে, তাদেরই ঢাকায় বসানো হয়। সেই অনিয়মের পথ বন্ধ করতেই লোভনীয় হিসেবে পরিচিত এই পদগুলোতে প্রথম লটারি অনুষ্ঠিত হলো। সারাদেশের সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম শ্রেণির বা এ ক্যাটাগরির মোট ১৩১টি পদ রয়েছে। রাজধানী ঢাকার সবকটি পদই এই বিশেষ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। লটারির মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন কার্যালয়ে পদায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৮ জন কর্মকর্তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচিত এসব কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বদলি ও পদায়ন আদেশ জারি করা হবে।

মন্ত্রী জানান, লটারিতে যাদের নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করে ঢাকায় পদায়ন নিশ্চিত করা হবে। এই লটারি প্রক্রিয়া কেবল একবারের নয়, বরং তা একটি ধারাবাহিক সংস্কার হিসেবে চলমান থাকবে। লটারি শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত কর্মকর্তাদের পৃথক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। সাক্ষাৎকারে তাদের কাজের অতীত মূল্যায়ন, শারীরিক সক্ষমতা এবং জটিল কাজের চাপ সামলানোর যোগ্যতা নিরূপণ করে নির্দিষ্ট কার্যালয় বণ্টন করা হবে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতে বা বর্তমানে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তাকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। 

দুর্নীতির পরিচিত কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘদিনের কায়েমী সিন্ডিকেট পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতেই স্বচ্ছ লটারি ব্যবস্থার পাশাপাশি চব্বিশ ঘণ্টা তদারকির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের বিষয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকলে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হবে না, আবার দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে সাব-রেজিস্ট্রারদের পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে কতিপয় সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে অনৈতিক মাসোহারা দাবির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিয়মিত মাসোহারা প্রদান না করলে কোনো কোনো সাংবাদিক বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন। তবে সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সাংবাদিকের নাম বা সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আর্থিক অনিয়ম পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সবার আগে সামগ্রিক মানসিকতায় গুণগত রূপান্তর আনতে হবে। জনবলের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে সক্রিয় সাব-রেজিস্ট্রারের সংখ্যা ৩৭২ জন। বিপরীতে এখনও শূন্য রয়েছে ১৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ।