অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের লক্ষ্য অর্জনে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন এবং স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, আজকের শিশুই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মূল কাণ্ডারি।
তাদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার লালনের ওপরই নির্ভর করছে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার ভবিষ্যৎ। তাই দেশের সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।
শিশুর সামগ্রিক সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুষম বিকাশে সরকারের গৃহীত নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপের কথা বাণীতে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের কর্মমুখী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিশুবান্ধব বিচারিক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগগুলো এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে ভূমিকা রাখছে। দেশের সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী এবং দূরবর্তী প্রান্তিক জনপদের শিশুদের কাছে এসব রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুরক্ষার সুফল আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষ সাধনে ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, তৃণমূল ও বিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলায় আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত প্রতিভাবান শিশুদের জন্য স্পোর্টস কার্ড প্রবর্তন ও নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় প্রতিভা খুঁজে বের করতে ঐতিহ্যবাহী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চার পারস্পরিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই আমাদের শিশুরা মানবিক মূল্যবোধ, জ্ঞান, নৈতিকতা এবং গভীর দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠবে। একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন, পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, আবৃত্তি ও সাহিত্যের মতো বহুমুখী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তিক শিশুর কাছে এই সৃজনশীল আলো ছড়িয়ে পড়বে। বাণীতে সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তিনি ঘোষণা করেন, বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দময় ও আলোকিত করাই সবার মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন