মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
শ্রমবাজার

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে কাজের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার কৃষি খাতে কাজের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম, বার্লি ও ক্যানোলা রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়ায় কৃষি খাতে দেখা দিয়েছে দক্ষ কর্মীর সংকট। এই সংকট মেটাতে বিদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ভিসা প্রক্রিয়ায় গতি এনেছে দেশটির সরকার।

এতে সুযোগ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্যও। প্রতি বছর ফসল কাটার মৌসুমে বিপুল সংখ্যক মৌসুমী শ্রমিকের প্রয়োজন হয় দেশটিতে। কিন্তু সম্প্রতি অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আসায় বিদেশি কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে পড়েন দেশটির কৃষক ও খামার মালিকরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার ও দেশটির জাতীয় কৃষক সংগঠন ন্যাশনাল ফার্মারস ফেডারেশনের মধ্যে একটি জরুরি সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় বিদেশি কর্মীদের বিদ্যমান ভিসা প্রক্রিয়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেসব কর্মী ইতোমধ্যে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় আবেদন করেছেন এবং নির্দিষ্ট কোনো খামারের সঙ্গে কাজের চুক্তি করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজে বিশেষ দক্ষতা থাকতে হবে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর প্রয়োজন হতে পারে।

তবে সাধারণ বাংলাদেশিদের জন্য এখানে একটি বড় শর্ত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত ওয়ার্কিং হলিডে ভিসায় যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। ফলে সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এই নির্দিষ্ট জরুরি সুবিধায় সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। তবে দেশটির কৃষি খাতে নির্ধারিত দক্ষ পেশায় নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের মাধ্যমে কর্মভিসার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে হর্টিকালচার ইন্ডাস্ট্রি লেবার এগ্রিমেন্টের আওতায় কৃষি প্রযুক্তিবিদ, খামার ব্যবস্থাপক, সেচকর্মী ও কৃষিযন্ত্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে অনুমোদিত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার জন্য প্রথমেই যেতে হবে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি চাকরি অনুসন্ধান প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ার্ক ফোর্স অস্ট্রেলিয়া’-তে। সেখানে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কৃষি খাতের চাকরি খুঁজতে হবে। এজন্য সার্চ বক্সে নির্দিষ্ট পেশার নাম লিখে অনুসন্ধান করতে হবে এবং দেখতে হবে নিয়োগকর্তা বিদেশ থেকে কর্মী নিচ্ছেন কিনা বা ভিসা স্পনসরশিপের সুযোগ রয়েছে কিনা। কারণ সব চাকরির বিজ্ঞাপন বিদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। সাধারণ ফল সংগ্রহ বা খামারে শ্রমিকের চাকরির বিজ্ঞাপন পেলেই যে বাংলাদেশ থেকে কর্মভিসা পাওয়া যাবে, ব্যাপারটি এমন নয়। সংশ্লিষ্ট পদটি অবশ্যই প্রযোজ্য কর্মভিসার আওতায় যোগ্য হতে হবে।

যোগ্যতা মিললে নিজের জীবনবৃত্তান্ত, ব্যক্তিগত সনদ ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য দিয়ে সরাসরি নিয়োগকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনে অনলাইনে সাক্ষাৎকারও দিতে হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৪৮২ বা স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসার সাধারণ দক্ষতা ক্যাটাগরিতে সংশ্লিষ্ট পেশায় অন্তত এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। পাশাপাশি নির্ধারিত ইংরেজি দক্ষতা, শিক্ষাগত বা কারিগরি যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দক্ষতা মূল্যায়নের শর্ত পূরণ করতে হবে। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির অফার পাওয়ার পর ভিসার পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়োগকর্তা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ ও মনোনয়ন জমা দিলে একটি ট্রানজেকশন রেফারেন্স নম্বর বা টিআরএন পাওয়া যাবে।

এই নম্বরটি ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি অনলাইন ভিসা আবেদন প্ল্যাটফর্ম ইমি অ্যাকাউন্টে আবেদন করা যাবে। প্রথমে নিজের নামে একটি ইমি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ভিসার আবেদন ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের বিবরণ, চাকরির তথ্য এবং নিয়োগকর্তার মনোনয়নের নম্বর দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে বৈধ পাসপোর্ট, শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফল ও দক্ষতা মূল্যায়নের নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নথিও প্রয়োজন হতে পারে। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণের পর নির্ধারিত ভিসা ফি পরিশোধ করে আবেদন জমা দিতে হবে।

ভিসা অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া যাত্রার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা উচিত নয়। বিদেশে চাকরি কিংবা ভিসা নিশ্চিত করার নামে অর্থ আদায়ের প্রতারণা থেকে বাঁচতে নিয়োগকর্তার পরিচয়, চাকরির চুক্তি ও স্পনসরশিপের বৈধতা যাচাই না করে কাউকে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকার কঠোর পরামর্শ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।