অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
গাছের প্রতি শৈশবের গভীর ভালোবাসা ও শখ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ক্যাকটাস চাষে সফল বাণিজ্যিক উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন আলতাফ হোসেন। প্রত্যন্ত গ্রামীণ পরিবেশে চাকরির পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন প্রায় ১২০ জাতের ক্যাকটাস ও সাকুলেন্টের সংগ্রহশালা। শখের বশে শুরু হলেও এই বাগান থেকে এখন প্রতি মাসে তার গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় আসছে। অনলাইনে কয়েকজনের উদ্যোগ দেখে তিনি প্রথম ক্যাকটাস সংগ্রহ করতে শুরু করেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ যেখানে প্রচলিত চাষাবাদে অভ্যস্ত, সেখানে তিনি বেছে নেন ব্যতিক্রমী পথ।
প্রথম দিকে শুধু নিজের ভালোলাগা থেকে সংগ্রহ করলেও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে বিক্রির উদ্দেশ্যে পোস্ট দিয়ে তিন হাজার ৭০০ টাকার একটি ক্রয়াদেশ পান। সেই বিক্রি থেকেই তার মনে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে তার বাগানে দুই থেকে তিন লাখ টাকার ক্যাকটাস রয়েছে। কাঁটাযুক্ত রসালো গাছকে ক্যাকটাস এবং কাঁটাহীন মসৃণ পাতার রসালো উদ্ভিদকে সাকুলেন্ট বলা হয়। বাজারে কাঁটাহীন সাকুলেন্টের চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
তার সংগ্রহে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে বিরল জাতের আমদানি করা সাকুলেন্ট সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হয়। ছোট আকারের একটি টবের ভেতরে পাঁচ ধরনের ভিন্ন জাতের ক্যাকটাস সাজিয়ে মিশ্র টপ তৈরি করেন তিনি। টেবিল সাজানোর এসব নান্দনিক টব ক্রেতাদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া একটি কাচের পাত্রের ভেতরে ছোট বেঞ্চ, প্রতিকৃতি ও ঘর দিয়ে ক্যাকটাসের ক্ষুদ্র প্রাকৃতিক আবহ ফুটিয়ে টেরারিয়াম তৈরি করছেন তিনি।
তার নার্সারিতে ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে আনা ডাবল পাপড়ির সাতটি রঙের বিশেষ কালঞ্চু ফুল রয়েছে যা দেখতে অনেকটা গোলাপের মতো। এর পাশাপাশি নাইট কুইন পরিবারের পিকক টেইল বা ময়ূরের লেজ নামের ব্যতিক্রমী পাতাওয়ালা ক্যাকটাসও ফুল ফুটিয়ে নজর কাড়ছে। ক্যাকটাসের চারা তৈরিতে তিনি সাধারণ দোআঁশ মাটির সাথে বালি মিশিয়ে বিশেষ মিশ্রণ ব্যবহার করেন। তবে স্টাপেলিয়া গোত্রের উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বালির পরিমাণ কমিয়ে মাটির ভাগ বাড়াতে হয়। ক্যাকটাসে রোগের আক্রমণ তুলনামূলক কম হলেও ছত্রাকের আক্রমণ ঠেকাতে নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। গাছের উজ্জ্বলতা ও বৃদ্ধি ঠিক রাখতে ১৫ দিন পরপর নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও কপারের সংমিশ্রণে তৈরি সুষম সার স্প্রে করা হয়।
ক্যাকটাসের পাশাপাশি ছায়াযুক্ত উপযুক্ত পরিবেশ কাজে লাগিয়ে তিনি অর্কিড চাষও শুরু করেছেন। তার সংগ্রহে রয়েছে ড্যান্সিং ডল হিসেবে পরিচিত অনসিডিয়াম, বিভিন্ন রঙের ডেনড্রোবিয়াম এবং ভ্যান্ডা জাতের অর্কিড। প্রতিটি অনসিডিয়াম গাছ প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা এবং ডেনড্রোবিয়াম ও ভ্যান্ডা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। ভবিষ্যতে দেশ থেকে বিলুপ্ত হতে বসা ১০০ থেকে ২০০ প্রজাতির বিরল ঔষধি গাছ সংগ্রহ ও চারা উৎপাদনের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন এই উদ্যোক্তা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন