রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল নিয়ে মুখ খুললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল নিয়ে মুখ খুললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

শায়খ আহমাদুল্লাহ

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল ইস্যুতে প্রথমবারের মতো নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। আজ সোমবার ৬ এপ্রিল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে গত সপ্তাহে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। 

নির্ধারিত সফর শেষ করে জরুরি কাজে গত শনিবার তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে আজ সোমবার সকালে তিনি গণমাধ্যম ও অন্যান্য সূত্রে জানতে পারেন যে তার অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ভিসা বাতিলের যে আনুষ্ঠানিক চিঠি তিনি পেয়েছেন সেটির ভাষ্য তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন যে লেটারটি ছিল অত্যন্ত প্রথাগত বা ফরমাল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে আবেদনকারী যে উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া এসেছিলেন সেই উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন। 

ফলে ওই ভিসার প্রয়োজনীয়তা আর অবশিষ্ট নেই বলেই তা বাতিল করা হয়েছে। শায়খ আহমাদুল্লাহ দাবি করেন যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে বিষয়টি যেভাবে নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হচ্ছে তার কোনো প্রতিফলন তিনি মূল চিঠিতে দেখতে পাননি।তবে এই ঘটনার পেছনে কিছু নেতিবাচক প্রচারণার প্রভাব থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করছেন।

 

আহমাদুল্লাহর মতে কিছু চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী তার বিভিন্ন বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং ভুল অনুবাদ প্রচার করে স্থানীয়দের বিভ্রান্ত করে থাকতে পারে। যেকোনো অভিযোগ আমলে নেওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।শায়খ আহমাদুল্লাহ এই ঘটনার একটি সম্ভাব্য প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি উলেখ করেন যে গত জানুয়ারি মাসে ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সার সামি ইয়াহুদের ভিসা বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। 

সেই ঘটনার পর একটি শক্তিশালী লবি কাজ করে থাকতে পারে এবং তারই বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে তার বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা চালানো হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে এই বিষয়ে তিনি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে কোনো ধর্ম বা জাতির প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। এমনকি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি যেকোনো অন্যায়েরও তিনি বরাবরই বিরোধিতা করে আসছেন।এর আগে সিডনির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। 

প্রতিবেদনে দেশটির অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েটের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয় যারা ইহুদিবিদ্বেষী বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ায় তাদের প্রতি সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে। মূলত ওই প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় যার প্রেক্ষিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ আজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন। তাঁর এই ব্যাখ্যা এখন সাধারণ অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।