সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,
প্রযুক্তি নিরাপত্তা চুক্তি

এআই নিয়ে ভীতি কাটাতে ট্রাম্পের সুপার ইন্টেলিজেন্স নীতি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

এআই নিয়ে ভীতি কাটাতে ট্রাম্পের সুপার ইন্টেলিজেন্স নীতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক কৌশল গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রচলিত এআই ধারণার বদলে এই প্রযুক্তিকে এখন থেকে ‍‍`সুপার ইন্টেলিজেন্স‍‍` হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একটি বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তিতেও পৌঁছেছে হোয়াইট হাউস।

স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের প্রধান ব্যক্তিরা আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিলেও এতে কোনো ধরনের আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। খোদ ট্রাম্প এই সমঝোতাকে আইনি বাধ্যবাধকতার পরিবর্তে একটি ‍‍`নৈতিক বাধ্যবাধকতা‍‍` হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সাময়িকী টেকক্রাঞ্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের কাজ হারিয়ে বেকার হওয়ার তীব্র শঙ্কা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি কাটানোই এই নীতিগত পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিপরীতে প্রযুক্তিটিকে একটি উন্নত ও অপার সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ‍‍`সুপার ইন্টেলিজেন্স‍‍` ধারণা সামনে এনেছে মার্কিন প্রশাসন।

অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর যেকোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোর বিরোধী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রযুক্তির বিকাশে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে সে সময় জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে অবস্থান পরিবর্তন করে প্রযুক্তি জায়ান্টদের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নেন মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই।

সাম্প্রতিক সময়ে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ করে দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগের মতবিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। সেই টানাপোড়েনের মধ্যেও দারিও আমোদেইকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী মহলে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটেনি।

আইনগত কার্যকারিতা না থাকায় এই নিরাপত্তা চুক্তি বাস্তব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি কতটা রোধ করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। তবে পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশের মতে, চুক্তির কার্যকর আইনি শক্তি না থাকলেও এর একটি সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এবং শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্ভাবকরা প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যৌথ বার্তা দেওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। বিশ্লেষকদের পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট যে, ‍‍`প্রযুক্তি চাকরি কেড়ে নেবে‍‍` এমন সার্বিক ভীতি কাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক রূপ তুলে ধরাই এই সুকৌশলী ভাবমূর্তি বদলের প্রধান উদ্দেশ্য।