বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
নোবেল শান্তি পুরস্কার

ট্রাম্প থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে যত জল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

ট্রাম্প থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে যত জল্পনা

এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। নরওয়ের নোবেল কমিটি আগামী ৯ অক্টোবর অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।

এ বছর পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান। তবে নোবেল কমিটি সাধারণত মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে না। ফলে বিজয়ীর নাম আগেভাগে অনুমান করা অনেকটাই অনিশ্চিত। অতীতে কমিটি বহুবার এমন ব্যক্তিকেও পুরস্কার দিয়েছে, যাদের নাম ঘোষণার আগে খুব একটা আলোচনায় ছিল না।

এবারের আলোচনায় সবচেয়ে চমকপ্রদ সম্ভাবনার একটি হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পূর্বাভাসদাতাদের কেউ কেউ আইএসএসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখছেন। শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলভ এই সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বিভিন্ন দেশের মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের একসঙ্গে কাজ করার এক বিরল প্রতীক।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এবারও আলোচনায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্পের প্রার্থিতা বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তিনি আলোচনায় আসেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কার্নি পুরস্কার পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে।

ইউক্রেন ও সুদানের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের পাশাপাশি সুদানের স্থানীয় ত্রাণ নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’-এর নাম আলোচিত হচ্ছে। যুদ্ধকবলিত সুদানে সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও (আইসিসি) আলোচনায় রয়েছে।

নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারে বিশেষ আলোচনা চলছে। ১২৫ বছরের ইতিহাসে ১১২ জন নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেও তাদের মধ্যে নারী মাত্র ২০ জন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। এবারের সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে গাজার সার্জন সারা আল-সাক্কা এবং রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ও প্রয়াত আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়ার নাম রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত বেড়ে চলা এমন এক সময়ে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। সুদান, ইউক্রেন, ইয়েমেন ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নোবেল কমিটি কাকে শান্তি পুরস্কার দেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।