অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনন্য ও সাহসী ভূমিকা রাখায় তাকে মর্যাদাপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।
নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, সংঘাতের অহিংস সমাধান ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়েই আইনের শাসন বজায় রাখা অপরিহার্য। শান্তির পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলো একের পর এক নজিরবিহীন আক্রমণ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নাভি পিল্লাই অপরিসীম সাহস, দূরদর্শিতা ও নীতিগত দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
নাভি পিল্লাই দীর্ঘ কর্মজীবনে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় কর্ণধারদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর অবিচল গুরুত্বারোপ করে গেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবে গণহত্যা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক অবদান রাখেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রুয়ান্ডা গণহত্যার মামলা পরিচালনাকালে গণমাধ্যমের মাধ্যমে উসকানি দিয়ে গণহত্যা সংঘটনের দায়ে ঐতিহাসিক বিচারিক সিদ্ধান্তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
নাভি পিল্লাই ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে বিশ্বজুড়ে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বৈশ্বিক সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কাজ করেছেন।
১৮৯৫ সালে সুইডিশ উদ্ভাবক ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইলের ভিত্তিতে প্রবর্তিত নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রতি বছর তাদেরই প্রদান করা হয়, যারা বিশ্বজুড়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি, সামরিক শক্তি বা সেনাবহর হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর অবদান রাখেন। আগামী ডিসেম্বরে অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে এই সম্মানজনক পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন