বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
হালাল অর্থনীতি

হালাল অর্থনীতিকে রপ্তানির বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখার আহ্বান বিএমসিসিআই সভাপতির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

হালাল অর্থনীতিকে রপ্তানির বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখার আহ্বান বিএমসিসিআই সভাপতির

বাংলাদেশে হালাল অর্থনীতিকে শুধু পণ্যের সনদ বা মুসলিম ভোক্তাদের জন্য অনুমোদনের বিষয় হিসেবে না দেখে শিল্প, বিনিয়োগ ও রপ্তানির বড় সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ।

তাঁর মতে, হালাল অর্থনীতি এখন সনদের গণ্ডি পেরিয়ে শিল্প, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, মানদণ্ড, দক্ষতা, বাজারে প্রবেশাধিকার ও রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় পরিণত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএমসিসিআই।

বিএমসিসিআইয়ের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরেও হালাল অর্থনীতিকে ঘিরে এই বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গিই গুরুত্ব পেয়েছে। আনোয়ার শহীদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) ২০২৬-এ অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ হালাল প্রতিষ্ঠান ডিপার্টমেন্ট অব ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট মালয়েশিয়া (জাকিম) ও হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এইচডিসি) সঙ্গে কৌশলগত বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের হালাল শিল্পের সম্ভাবনা, মানদণ্ড, সনদ, প্রযুক্তি ও রপ্তানি সম্প্রসারণের মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ব্যবসাগুলোকে বৈশ্বিক হালাল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বিশ্বমানের হালাল অভিজ্ঞতা কীভাবে বাংলাদেশের হালাল শিল্প ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, তা খুঁজে দেখা। মিহাসের ২২তম আসর ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী, প্রসাধনী, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, শালীন ফ্যাশন, ইসলামিক ফাইন্যান্স, ফিনটেক, ই-কমার্স, শিক্ষা, পর্যটন ও সেবাসহ ১৪টি খাতের হালাল পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হয়। এই মেলায় দুই মিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ পেয়েছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’।

বিএমসিসিআই সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ব্যবসাগুলোকে প্রকৃত অর্থে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা, যেন তারা মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে। মানদণ্ড, সনদ, শিল্প উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে মালয়েশিয়া একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। আমরা এই ইকোসিস্টেম এবং বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের বাইরে প্রসাধনী, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ সব খাতেই হালাল সনদের গুরুত্ব বাড়ছে। কোনো পণ্য যথাযথভাবে হালাল সনদ পেলে শুধু মালয়েশিয়ার বাজারেই নয়, অন্যান্য দেশেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। তাই হালালকে কেবল ধর্মীয় বিষয় হিসেবে না দেখে বাণিজ্যিক ও বৈশ্বিক বাজারের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু হালাল দাবি করাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদব্যবস্থা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে হালাল সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সাধারণত আমরা হালাল বলতে শুধু খাবারকেই বুঝি। কিন্তু হালাল লজিস্টিকস, হালাল হোটেল, হালাল পর্যটনসহ এর পরিধি বিশাল।

মালয়েশিয়া সফরে বিএমসিসিআই প্রতিনিধি দল জাকিমের হালাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. আসরি বিন আবদুল্লাহ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সনদ, কমপ্লায়েন্স, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাকিমের সহায়তায় বাংলাদেশে আরও শক্তিশালী সনদব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো যেন মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক হালাল মানদণ্ড পূরণ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করেছে বিএমসিসিআই। এছাড়া ২০২৭ সালে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ হালাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে জাকিমকে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি পরামর্শ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে জাকিম-বিএমসিসিআই ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশেকে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাকিম।

এছাড়া হালাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এইচডিসি) সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া হালাল অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা করেছে বিএমসিসিআই। আলোচনায় মালয়েশিয়ার হালাল কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আনা, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর, বাংলাদেশের বাণিজ্য মেলায় মালয়েশীয় কোম্পানির অংশগ্রহণ এবং প্রস্তাবিত বাংলাদেশ হালাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটের বিষয় উঠে আসে। বিএমসিসিআই ও এইচডিসি নির্দিষ্ট ফোকাল পারসন, নিয়মিত যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সংযোগ ও বাজারসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বছরজুড়ে একটি সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তায় একমত হয়েছে।