সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,
গ্যাস সংকটে সার কারখানা

যমুনা সার কারখানায় ফের উৎপাদন বন্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম

যমুনা সার কারখানায় ফের উৎপাদন বন্ধ

গ্যাস সরবরাহ আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় জামালপুরের তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানার (জেএফসিএল) উৎপাদন ফের পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কারখানাটির ইউরিয়া সার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।

এর আগে কারখানার প্রধান বয়লারের কারিগরি ত্রুটি টানা ১৫ দিন ধরে মেরামতের পর গত ২৩ অক্টোবর কারখানাটিতে সার উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছিল। কিন্তু চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটের কারণে ফের মুখ থুবড়ে পড়ল এই বৃহৎ ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি।

কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় রোববার সকাল থেকেই ইউরিয়া উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, আগামী ডিসেম্বর মাসের আগে কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যমুনা সার কারখানা।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ছিল এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহকৃত গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ কমে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা নেমে আসে এক হাজার ৩০০ মেট্রিক টনে।

এর আগেও কারখানাটি দফায় দফায় গ্যাস সংকটের কবলে পড়ে। গত বছরের জুন মাসে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে এবং প্রয়োজনীয় গ্যাসের সরবরাহ না পাওয়ায় ২১ জুন থেকে সার উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

দীর্ঘ কয়েক মাস অচলাবস্থার পর গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে উৎপাদনে ফিরেছিল যমুনা সার কারখানা।

কারখানার অতীতের কারিগরি জটিলতার ইতিহাসেও একের পর এক সংকট দেখা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ তানাজি এস পন্দেকারের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল কারখানার অ্যামোনিয়া প্লান্টের এনজি বুস্টার কমপ্রেসার পরিদর্শনে আসে।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তিনি এনজি বুস্টারের একটি ভুল বাটনে চাপ দেন। এর ফলে বিকট শব্দে কেঁপে উঠে অ্যামোনিয়া প্লান্ট আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের কয়েক দিনের টানা প্রচেষ্টায় ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হলেও রোববার সন্ধ্যায় রিফরমার টিউবে বিপজ্জনক লিকেজ দেখা দেওয়ায় কর্তৃপক্ষ ফের ইউরিয়া সার উৎপাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত এই সার কারখানার দীর্ঘস্থায়ী উৎপাদন অচলাবস্থার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯টি কৃষিপ্রধান জেলার প্রান্তিক কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া সরবরাহের জন্য এই কারখানাটির ওপর সরাসরি নির্ভর করতে হয়।

কারখানাটিতে উৎপাদন দীর্ঘায়িতভাবে বন্ধ থাকলে অভ্যন্তরীণ খোলা বাজারে ইউরিয়া সারের চরম ঘাটতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে গিয়ে বাড়ে আমদানিনির্ভরতা। তখন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে অতিরিক্ত সার আমদানি করতে বাধ্য হয় সরকার, যার সরাসরি চাপ পড়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের ওপর।