বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,
ফুটপাতে মারধরের ঘটনা

ধানমন্ডিতে মারধরে যুবক আটক ও দাঁড়িয়ে থাকা এএসআই প্রত্যাহার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ধানমন্ডিতে মারধরে যুবক আটক ও দাঁড়িয়ে থাকা এএসআই প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডির ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করায় ধানমন্ডি থানার এক সহকারী উপপরিদর্শককে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আটক যুবকের নাম খালিদ হাসান। বুধবার পৌনে বারোটার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম আবদুল হাই। তিনি ধানমন্ডি থানায় সহকারী উপপরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, গত সোমবার দুপুরে সাতমসজিদ রোডের বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে ফুটপাতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তিকে মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানো হয়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খালিদকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। মারধরের শিকার শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে ভুগছেন বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, আটক খালিদ পেশায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাফিক্স ডিজাইনার।

গত সোমবার দুপুরে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে শহীদ আবদুল্লাহকে চড়-থাপ্পড়, লাথি ও কান ধরে ওঠবস করানো শুরু করেন খালিদ। এ ঘটনার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার সময় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মারধরের সময় এএসআই আবদুল হাইয়ের সেখানে নির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি দুজন সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ দাঙ্গা দমন বিভাগের হওয়ায় তাদের প্রশাসনিক বিষয়ে তিনি অবগত নন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে গালাগাল করতে করতে এক ব্যক্তিকে অনবরত থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। চারপাশে অনেক পথচারী জড়ো হয়ে পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন এবং কয়েকজন মুঠোফোনে তা ভিডিও করছিলেন।

ভিডিওতে পথচারীদের বলতে শোনা যায় যে ক্যান্টিনের ভেতর এক তরুণীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।

একপর্যায়ে এক পথচারী এগিয়ে এসে মারধরের শিকার ব্যক্তিকে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের হাতে সোপর্দ করার অনুরোধ জানান। এ সময় ওই ব্যক্তির মুঠোফোন জব্দ করে তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন অভিযুক্ত যুবক ও এক পথচারী। অভিযুক্ত যুবককে বলতে শোনা যায়, ক্ষমা চাইলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। এরপর তিনি আবারও মারধর শুরু করেন। পুরো ঘটনার সময় কয়েক হাত দূরে পুলিশের দুই সদস্য নীরবে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলেন।