বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

পুলিশের ওপর হামলা অপরাধ দমনে নতুন নয় কঠোর ব্যবস্থা নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

পুলিশের ওপর হামলা অপরাধ দমনে নতুন নয় কঠোর ব্যবস্থা নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আসামি গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া বা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান, বিশেষ করে নগরের খুলশী এলাকার অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকেরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই ঘটনায় চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্যের আত্মীয়ের নাম উঠে আসার বিষয়টিও প্রশ্নে উত্থাপন করা হয়।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মাঠপর্যায়ে অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে হামলার মুখে পড়ে, যা নতুন কিছু নয়। তবে কোনো অপরাধীকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কেউ যদি আশ্রয় কিংবা সহায়তা প্রদান করে, তবে তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি খুলনা অঞ্চলে ছিনতাইকারীদের কবলে এক পুলিশ সদস্যের পড়ার ঘটনা তুলে ধরে সাংবাদিকেরা জানতে চান, রাতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না। এছাড়া ছিনতাইকারী ও চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধ দমন করা পুলিশের দৈনন্দিন ও নিয়মিত কার্যক্রমেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সরকার অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ সরাসরি জানান, এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের বিবেচনায় নেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার স্পেস ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অনলাইন আর্থিক প্রতারণা এবং শেয়ারবাজারে সংঘটিত কারসাজির মতো জটিল অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্ত ও প্রতিরোধে এই আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। ক্রমবর্ধমান এ ধরনের ডিজিটাল অপরাধ সফলভাবে মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও ঘোষণা করেন, অচিরেই দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই কারিগরি সক্ষমতা সম্প্রসারণের সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সিআইডির ল্যাবরেটরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে।

‘সেফার সাইবারস্পেস ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ: এনহ্যান্সিং ন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিয়নাল ডিজিটাল ইনভেস্টিগেশন ক্যাপাবিলিটি অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এবং কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কয়কা)।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (উন্নয়ন) সরদার নূরুল আমিন, কয়কা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হক এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।