শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন

চট্টগ্রাম বন্দরের স্থবিরতা কাটাতে দক্ষ অপারেটর আনা হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের স্থবিরতা কাটাতে দক্ষ অপারেটর আনা হচ্ছে

চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনায় থাকা দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে বিশ্বমানের দক্ষ অপারেটর যুক্ত করার পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সাথে দেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বন্দরের কর্মক্ষমতা ও সেবার মান বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্ব মেরিটাইম দিবস এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই যৌথ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, বিশ্বে কনটেইনার ও সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় যাদের দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে, তাদের নিয়ে এসে দেশের বন্দরগুলোকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ও মোংলাকে কেন্দ্র করে বৃহৎ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক হাব গড়ে ওঠার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। শেখ রবিউল আলম জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে ঘিরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসছে। তবে এই দ্রুত শিল্পায়নের সাথে সাথে যদি বন্দরগুলোর সেবার গতি ও সামগ্রিক পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা না যায়, তবে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এই প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই বর্তমান সরকার একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সাথে অংশীদারত্বের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন নৌমন্ত্রী। তিনি জানান, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ডেনমার্কের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এপি মোলারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বে টার্মিনাল-১ পরিচালনার জন্য সিঙ্গাপুরের পিএসএ প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনা এগিয়ে চলছে এবং আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের রূপরেখায় পৌঁছাবে।

সম্ভাবনাময় মেরিটাইম খাতের সার্বিক বিকাশ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন শেখ রবিউল আলম। তিনি উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশের মেরিটাইম খাত বিগত বছরগুলোতে প্রত্যাশিত পর্যায়ে বিকশিত হতে পারেনি। তবে অতীতে কেন পারা যায়নি, সেই ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে না থেকে বর্তমান সরকার এই খাতকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। মাঠপর্যায়ের নানা অসঙ্গতি দূর করার জন্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কার্যক্রমে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা সরাসরি সরকারকে জানাতে হবে এবং সরকার তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধান করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট কাজী এবিএম শামীম।