অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের জাজান ও নাজরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে সোমবার রাতে পৃথক দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন বা জিএসিএ জানিয়েছে, এই আকস্মিক হামলায় তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দর অবকাঠামো ও স্থাপনায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জিএসিএ-র আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, জাজানের কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নাজরান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—উভয় স্থাপনাই সরাসরি আঘাতের শিকার হয়। হামলার পরপরই উদ্ধারকারী জরুরি সেবা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত জরুরি প্রোটোকল অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বিমানবন্দর দুটিতে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও অবকাঠামোগত পরিমাণ নিরূপণ ও বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে।
সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, বেসামরিক বিমানযাত্রী ও কর্তব্যরত বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সামগ্রিক বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার সংবেদনশীল নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড় সমন্বয় রেখে যাবতীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ কার্যকর রাখা হয়েছে। সৌদি প্রশাসনের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ধ্বংসাত্মক হামলার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পক্ষ বা গোষ্ঠীকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।
তবে এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুতি আন্দোলন সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনার প্রকাশ্য দাবি জানিয়েছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, জাজান ও নাজরান ছাড়াও রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা বিমানবন্দর, রাবিগে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা আরামকোর একটি কৌশলগত স্থাপনা এবং সৌদি বাহিনীর কয়েকটি সামরিক অবস্থান তাদের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ ধারণ করার প্রেক্ষাপটেই এই দ্বিমুখী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের বিরুদ্ধে অভিযান ব্যাপক জোরদার করার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুতিরাও সৌদি মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে সামরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন