অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে মঙ্গলবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যৌথ আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ করার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও উভয়েরই মূল উদ্দেশ্য এক। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা রাখে, তা পূরণে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
সরকারের হাতে থাকা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োগ করতে হবে। দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের তথ্যের বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে বলে এ সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে এ ধরনের অসংগতি দূর করে নিবন্ধনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার নির্দেশ দেন তিনি। শুধু কম্পিউটার বা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা যাবে না, বরং প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার ঘুরতে না হয়, সেটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হয়তো বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু তিনিও রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারও সরকারি সেবা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক, দায়িত্বশীল ও জনগণমুখী হওয়ার আহ্বান জানান ড. আবদুল মঈন খান। অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শুদ্ধতা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিল ঢাকা জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড।
এর পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এই সম্মাননা গ্রহণ করে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন