অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
সরকারি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার হতে হবে সম্পূর্ণ দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবকেন্দ্রিক। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ের ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে নতুন কোনো এআই বিভাজনে রূপ না নেয়, তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ১২টি অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। এই আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এআই গভর্ন্যান্স ইন প্র্যাকটিস: প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন’। সেখানে তিনি বলেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, উপযুক্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সরকারি খাতে এআই ব্যবহারে জনগণের আস্থা অর্জন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এআই এখন আর শুধু ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি নয়। সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এটি ইতোমধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে বলে জানান ফকির মাহবুব আনাম। তার মতে, একটি দেশ কত দ্রুত এআই গ্রহণ করবে শুধু সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কতটা দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিচক্ষণতার সঙ্গে এই প্রযুক্তি পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো একক দেশের কাছে এআই ব্যবহারের সব সমস্যার সমাধান নেই। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতাই কেবল এই ক্ষেত্রে একটি টেকসই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে পারে।
এই প্রযুক্তি যেন নতুন করে কোনো বৈষম্য তৈরি না করে, বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে কাজে লাগে, সেদিকে জোর দেন মন্ত্রী। এজন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব, ইউএনডিপি ও তুরস্ক প্রজাতন্ত্র যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। দুই দিনব্যাপী এই মেগা আয়োজনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইউএনডিপি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের মাধ্যমে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে যেখানে উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির ব্যবহারকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে এই উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান মন্ত্রী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন