মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
ভিডিও কল স্ক্যাম

নগ্ন ভিডিওর ভয় দেখিয়ে তরুণের ৪৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

নগ্ন ভিডিওর ভয় দেখিয়ে তরুণের ৪৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

ভিডিও কল দিয়ে নগ্ন নারীর ভিডিও দেখিয়ে এক তরুণের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের আহমেদাবাদে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটে। ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম ভিডিও কলটি আসে। কলটি ধরার পর হঠাৎ পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি দেখে ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন ওই তরুণ। পরে তিনি ওই নম্বরটিও ব্লক করে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে তার কাছে ফোন করে দাবি করা হয়, তার একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী আবারও ফোন কেটে দেন এবং নতুন নম্বরটিও ব্লক করে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় তাকে একটি ভিডিও ক্লিপও পাঠানো হয়েছিল, যা তিনি সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলেন। এরপর শুরু হয় পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখানোর নতুন ফাঁদ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘সঞ্জয় অরোরা’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিজেকে দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা দাবি করে ওই তরুণকে বলেন, তার নামে একটি নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও তাকে ভয় দেখানো হয়। এমনকি আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে বলে চরম আতঙ্ক তৈরি করা হয়।

এরপর প্রতারকেরা তাকে কথিত এক ইউটিউব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে ইউটিউবের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তরুণের নামে দুটি নগ্ন ভিডিও পাওয়া গেছে এবং সেগুলো সরিয়ে ফেলতে ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে। পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ওই তরুণ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ও পেশাগত জীবন নষ্ট হওয়ার ভয়ে তিনি ওই টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও প্রতারণা থামেনি। প্রতারকেরা নানা অজুহাতে বারবার তাকে হুমকি দিয়ে আরও টাকা চাইতে থাকে।

এভাবে দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান তিনি। এত টাকা দেওয়ার পরও প্রতারকেরা তার কাছে আরও অর্থ দাবি করলে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি বড় ধরনের সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবশেষে তিনি পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এখন প্রতারকদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ওই ব্যাংক হিসাবগুলো খতিয়ে দেখছে।