মে ৩, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
মোবাইল ফোনের ব্যাংকিং অ্যাপে হানা দিচ্ছে এক শ্রেণির হ্যাকার চক্র। একটি সাধারণ ফ্রি অ্যাপ বা লোভনীয় অফারের লিংকে ক্লিক করার কয়েক মিনিটেই ব্যবহারকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ইউনিটে গত এক মাসেই এমন অন্তত ৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, একটি এসএমএস বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অ্যাপ ডাউনলোডের লিংক দেওয়া হয়।
অ্যাপটি ইন্সটল করার পর হঠাৎ ফোনের স্ক্রিন ব্ল্যাক বা কালো হয়ে যাচ্ছে। এই সময়ে ব্যবহারকারী ফোনের সব নিয়ন্ত্রণ হারান এবং নেপথ্যে হ্যাকাররা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা সরিয়ে নেয়।
গত ২৭ মার্চ খেলা দেখার জন্য ‘এনবি’ নামের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করেছিলেন পিংকি নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি জানান, একটি বিজ্ঞাপনে বিশ্বের সব চ্যানেল বিনামূল্যে দেখার সুযোগ আছে দেখে তিনি অ্যাপটি ইন্সটল করেন। এরপরই ফোনটি হ্যাং হয়ে যায় এবং রিস্টার্ট হতে থাকে। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে ৫ লাখ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেয় হ্যাকাররা।
একই দিন একই কৌশলে প্রতারণার শিকার হন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সৌম্য কান্তি দাশ। তিনি ব্যাংক অ্যাপে ঢুকে ব্যালেন্স নিশ্চিত করতে চাইলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ফোন ব্ল্যাক স্ক্রিন হয়ে যায়। ফোনের পর্দায় ‘সিস্টেম আপডেটিং’ লেখা দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ফোনের রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে নেওয়া। কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকেও ৩ লাখ টাকা ট্রান্সফার হয়ে যায়।
ডিএমপির সাইবার ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানান, হ্যাকাররা ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যবহারকারীর ছদ্মবেশে টাকা ট্রান্সফার করছে। তদন্তে দেখা গেছে, এই টাকা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে ঘুরে অন্য অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে, যার অনেকগুলোই প্রতারক চক্রের নিয়ন্ত্রিত। কিছু ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রমের সূত্র দেশের বাইরে, বিশেষ করে চীন থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে অপরিচিত কোনো উৎস বা থার্ড পার্টি অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে যেসব ডিভাইসে আর্থিক লেনদেনের অ্যাপ রয়েছে, সেখানে ফ্রি গেম বা অ্যাপ ব্যবহার না করাই নিরাপদ। সাইবার বিশেষজ্ঞ মুশফিকুর রহমান পরামর্শ দিয়েছেন, ভুলবশত কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করলে বা ফোন অস্বাভাবিক আচরণ করলে দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন