অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। মঙ্গলবার এই আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দেশের বিভিন্ন স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির অনূর্ধ্ব-১৭ বছরের শিক্ষার্থীরা এই ক্রীড়া আসরে অংশ নিচ্ছে।
গত ২৬ আগস্ট দেশব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড। এবারের প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। এরপর ধাপে ধাপে জেলা পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৮৪০ জন, উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ৫ হাজার ৮৮৮ জন এবং অঞ্চল পর্যায়ে ৮২৮ জন শিক্ষার্থী নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে। সব বাধা পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এই চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিচ্ছে দেশসেরা ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী। এবারের আসরে হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা ও সাঁতার—এই চারটি নির্দিষ্ট ইভেন্টে লড়বে তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় যুক্ত থাকতে হবে। প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয় দুটিই শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার বড় সুযোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরাজয় মেনে নিয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হয়, সেই মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান তিনি। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে হবে, যারা দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের মতো বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ওপরও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেন, নারীশিক্ষার পথিকৃৎ নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জীবনী ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন