অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
শিশুদের শৈশব নিরাপদ করার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি সুরক্ষিত করার জোর তাগিদ দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, শৈশবের স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেই কেবল নতুন উদ্যমে শিশুরা তাদের লালিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে এগিয়ে যাবে। মঙ্গলবার জাতীয় শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি বা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর ভেতরেই অপার সম্ভাবনা ও অন্তর্নিহিত প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। সেই সুপ্ত প্রতিভার যথাযথ বিকাশ ঘটাতে শিশুদের জন্য উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক ক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং দেশের শিশু-কিশোরদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান ডা. জুবাইদা রহমান।
প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শিশুদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে। শিশু একাডেমির আঙিনায় ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে অগণিত শিশু-কিশোরের প্রতিভা প্রস্ফুটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেন এবং পরবর্তীতে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে দূরদর্শী নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে একাডেমিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। আগামী দিনেও এটি শিশুদের স্বপ্ন পূরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে স্নেহাশীষ জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের সব ধরনের বাধা-বিপত্তি ছিন্ন করে শিশুদের প্রস্ফুটিত হতে হবে এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার সফলতাকে দুহাতে বরণ করে নিতে হবে। প্রতিটি শিশুর ভেতরের ঘুমন্ত প্রতিভাকে প্রকাশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নতুন উদ্যম ও ইতিবাচক উদ্যোগে দেশের প্রতিটি শিশু সফল হতে পারে। প্রতিটি শৈশব হোক সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত—এই শুভকামনা জানান তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান শিশু একাডেমি চত্বরে এসে পৌঁছালে সারিবদ্ধ ১৫০ জন শিশু তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। আলোচনা সভা পর্বের ইতি টানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের পরিবেশনায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। এরপর তারা শিশুশিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী এবং ঐতিহাসিক আলোকচিত্র গ্যালারি ঘুরে দেখেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন