অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে তার কার্যালয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে। মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং সংসদীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানায়। জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এই অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও বিদেশে সর্বমহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। বৈঠকে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য আফসানা বেগম, শওকত আদম এবং ইউকে অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হোসেন। সাক্ষাতকালে ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুভাবাপন্ন, যা মূলত দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এছাড়া ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সরকারের বিভিন্ন জনমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছেন, যা যুক্তরাজ্য সরকারও তাদের নাগরিকদের জন্য করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আদলে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বাংলাদেশের পার্লামেন্টের জন্য একটি আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈঠকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃটেনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা বাংলাদেশে খোলার ক্ষেত্রে শিক্ষার মান বজায় রাখতে ব্রিটিশ শিক্ষক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিনিধিদলের এক প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার স্পষ্ট করেন যে, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সমান চোখে দেখা হয় এবং বর্তমানে অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকেই এসেছেন।
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র বহাল না থাকলেও বর্তমানের বাংলাদেশের সংসদে কার্যকর গণতন্ত্র চালু রয়েছে।সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলো এখন অনেক বেশি ক্রিয়াশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য গণতান্ত্রিক পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সদিচ্ছার কারণে এখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বচক্ষে সংসদ অধিবেশন দেখার এবং সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে মেধার মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে টেকসই করতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনমুখী করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে সংসদ ভবন এবং ঐতিহাসিক জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিনিধিদল এই আমন্ত্রণে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই দুই দেশের পার্লামেন্টারি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন